অবশেষে মুখ খুললেন অমিত শাহ

41

নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে পুলিশি বর্বরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিবৃতি চেয়ে সরব বিরোধীরা। ২০ জুলাই থেকে এতদিন চুপ করে থাকার পর অবশেষে মুখ খুললেন অমিত শাহ।
বুধবার দুপুরে অমিত শাহ বলেছেন, প্রথমেই বলি যে পলাতক, ভীরু এসব কথা ভারতীয় সংসদে এই প্রথম শোনা যাচ্ছে। প্রতিদিন আমি সংসদে এসে আমি নিজের চেম্বারে বসে থাকি। সংসদে বিরোধীরা আলোচনা করতেই দিচ্ছে না, তাহলে লোকসভায় এসে কী লাভ?
এরপর অমিত শাহ বলেন, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় জানিয়েছেন যে নিট নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত। বিরোধীরা সংসদ চলতে দিক।
বিরোধীদের কাছে অমিত শাহর আবেদন, আপনারা আলোচনা চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিন। আমরা আজই বিকেল তিনটে থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটে পর্যন্ত আলোচনায় প্রস্তুত। সরকারের লুকনোর কিছু নেই, সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সরকার তৈরি।
বিরোধীদের নির্দিষ্ট বিবৃতির দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিছক একটা বিবৃতি সংসদের রীতি নয়। যে কোনও বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সংসদে। আমরা বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত, দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবেন কে আলোচনা চায় আর কে চায় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিবৃতির পরই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, অমিত শাহর কল্পকাহিনিতে আমাদের কোনও উৎসাহ নেই। তাঁর ভাষণ, তাঁর কল্পনা আমাদের শোনার দরকার নেই। আমরা শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর চাইছি।
আমরা বলতে আমি ভারতের তরুণ প্রজন্মের কথা বলছি, বলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, দিল্লি পুলিশ এবং RAF দুটোই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। ২০ জুলাই ছাত্রদের ওপর ছররা গুলি, পেরেক লাগানো লাঠি চালানো হয়েছে কার নির্দেশে। যদি অমিত শাহ নির্দেশ দিয়ে থাকেন তাহলে তিনি দোষী আর তাঁর অজান্তে যদি গুলি চালানো হয় তাহলে তিনি অযোগ্য।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ছররা গুলি লেগে এক ছাত্রের চোখ নষ্ট হতে চলেছে, আরেক তরুণীর কানে ছররা গুলি চলেছে। ২০ দিন হয়ে গেল অমিত শাহ লোকসভায় আসার সাহস দেখাতে পারেননি। অমিত শাহ অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিন কে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এরপর লোকসভার বিরোধী দলনেতা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন ছাত্রসমাজ সরকারকে ভয় পাচ্ছে না, আপনারাই শুধু চুপ করে রয়েছেন। ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের লাঠি চালানো নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, গোটা ভারতের ছাত্রদের পাশে আমরা রয়েছি। শান্তিপূর্ণ কোনও প্রতিবাদে বলপ্রয়োগের পক্ষে নই আমরা।