চেয়ারপার্সন মমতাই! রাতারাতি কমিশনকে চিঠি দিল কালীঘাট তৃণমূল শিবির

11

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস দলটি প্রায় তিন দশক আগে নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বিধানসভায় জয়ের হ্যাট্রিক। সামলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার। কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি‌ । ক্ষমতা ও পদ হারানোর পর এখন সেই সুপ্রিমো হলেন নিজের দলেই ‘বহিরাগত’।

সোমবার নিউটাউনে গোপন বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন বিদ্রোহী ঋতব্রতর শিবির। দল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আর এই আবহে মমতা বনাম ঋতব্রতর লড়াই গড়াল দিল্লির নির্বাচন সদন পর্যন্ত । নিজের তৈরি সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি ও দলের অন্যান্য সাংগঠনিক স্তরের যাবতীয় তথ্য তিনি পাঠালেন কমিশনে।

এই প্রস্তাবিত চিঠিতে চেয়ারপার্সন মমতাই। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এছাড়া রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেনের নাম এবং কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম রয়েছে। এছাড়াও এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অমিত মিত্র, অসীমা পাত্র, মলয় ঘটক, গৌতম দেব, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বীরবাহা হাঁসদা, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, নাদিমুল হক, মদন মিত্র, মহুয়া মৈত্র, কুণাল ঘোষরা।

বিধানসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর কালীঘাটের বাড়িতে সোমবার বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেখানেই তৈরি হয়েছে দলের নতুন কর্মসমিতি।‌
গত ৫ জুন যে কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেখানে দলের প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক , মালা রায়, সায়নী ঘোষেরও নাম ছিল। কিন্তু সোমবারের নতুন কমিটি থেকে তাঁদের সোজাসুজি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে দুটি আলাদা দাবি জমা পড়লে, কমিশন কোন কমিটিকে আসল বলে স্বীকৃতি দেবে, সেটাই দেখার।