নিউজ ডেস্ক: সংসদে প্রথমবারের মতো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দেমাতরম গান সম্পূর্ণ গাওয়া হল। বৃহস্পতিবার লোকসভায় বাদল অধিবেশনের শেষদিনের কাজ শুরুই হয় সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গান দিয়ে। সম্প্রতি গোটা বন্দেমাতরম গান গাওয়া এবং এই গানকে অসম্মান করলে শাস্তির বিল পাস হয়েছে।
গোটা বাদল অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের কোনও কক্ষেই না এলেও বৃহস্পতিবার বন্দেমাতরম গানের সময় উপস্থিত ছিলেন দুজনই এবং ছিলেন রাহুল গান্ধী সহ বিভিন্ন বিরোধী সাংসদ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগণমন গান জাতীয় সংগীত আর বন্দেমাতরমকে বলা হচ্ছে জাতীয় গান। লোকসভার মতো রাজ্যসভাতেও বন্দেমাতরম গানের পরই বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে। সংসদের দুটি কক্ষেই বন্দেমাতরমের ছয়টি স্তবক গাওয়া হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বন্দেমাতরম গানের ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল। সম্প্রতি সেই বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এখন রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালের যে কোনও অনুষ্ঠান এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গান গাওয়া বাধ্যতামূলক।
২০ জুলাই শুরু হয়েছিল বাদল অধিবেশন। সেদিনই সংসদ চলো অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। সেই অভিযানে পড়ুয়াদের ওপর ছররা গুলি, পেরেক লাগানো লাঠি চালানো নিয়ে অমিত শাহর বিবৃতির দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। যদিও অমিত শাহ গোটা বাদল অধিবেশনে লোকসভা বা রাজ্যসভায় আসেননি। বুধবার অমিত শাহ বলেছিলেন, নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে তিনি আলোচনায় প্রস্তুত, বিরোধীদের সব অভিযোগের উত্তর দেবেন। এবিষয়ে আলোচনা চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও দেন অমিত শাহ।
কিন্তু লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পড়ুয়াদের ওপর ছররা গুলি, পেরেক লাগানো লাঠি চালানো নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে অনড় থাকেন। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব রামমন্দিরে চাঁদা চুরি নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন। মূলত এই দুটি দাবিতে বাদল অধিবেশনে কোনও দিনই লোকসভায় ঠিকঠাক কাজ হয়নি বলা যায়।
Prev Post