NEET দুর্নীতি: মন্ত্রিত্ব হারাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র!

10

স্টাফ রিপোর্টার: খুব শীঘ্রই রদবদল হচ্ছে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভায়। মোদী মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে একাধিক নয়া মুখ। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের পর মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে থাকায় মন্ত্রিত্ব নিয়ে কোনও সংশয় নেই অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের। তবে শিক্ষাবিভাগের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপর শাস্তির খাড়া নেমে আসতে পারে এবং এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

NEET-র প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ একাধিক ইস্যুতে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিরোধীদের টার্গেট হয়ে পড়েছেন ধর্মেন্দ্র। কিছুদিন আগে ধর্মেন্দ্রর অপসারণ চেয়ে নয়া দিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিল করে কক্রোচ জনতা পার্টি। সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি তোলা হয়। বহুদিন থেকেই কংগ্রেসেরও নিশানায়ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। বৃহস্পতিবারও গোটা দেশে একইসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কংগ্রেস।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সেই সাংবাদিক সম্মেলনেও মূলত গোটা দেশে ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আলোকপাত করা হয়। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সেই সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন এপিসিসি সভাপতি গৌরব গগৈ। গুয়াহাটির রাজীব ভবনেও একই ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। গোটা দেশের সঙ্গে অসমেও ভেঙে পড়া সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাতের পর মন্ত্রি সভার রদবদল নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে যখন দেশজুড়ে জোর চর্চা, ঠিক সেই সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জল্পনাকে আরও উসকে দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রীই। মঙ্গলবার মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ মন্ত্রকের রাজ্য মন্ত্রী জর্জ কুরিয়ান পদত্যাগ করেন। কারণ রাজ্যসভা সাংসদ হিসেবে ইতিমধ্যে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

কার্যকাল শেষ হয়ে গেছে রেল রাজ্যমন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টুরও। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি রাজ্যসভা সাংসদ বিট্টু। কিন্তু খুব শীঘ্রই সরে দাঁড়াতে হবে তাঁকেও। বিট্টুকে এখন আর রাজ্যসভায় চাইছে না বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে পাঞ্জাবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাঁকে। দিল্লি বিজেপির যা খবর সে অনুযায়ী মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে পঙ্কজ চৌধুরী এবং হর্ষ মালহোত্রাকেও।

কারণ সড়ক পরিবহণ বিভাগের রাজ্যমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রাকে দিল্লি বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে অর্থ বিভাগের রাজ্যমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে উত্তর প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ডানা ছাঁটা হতে পারে রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, প্রহ্লাদ যোশী এবং মনসুখ মান্ডবিয়ারও। মন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও।

কারণ, NEET সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের টার্গেট হয়ে গেছেন ধর্মেন্দ্র। কিছুদিন আগে ধর্মেন্দ্রর অপসারণ চেয়ে নয়া দিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিল করে কক্রোচ জনতা পার্টি। বহুদিন থেকেই কংগ্রেসেরও নিশানায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। তাই তাঁর অপসারণ একরকম নিশ্চিত।

কেন্দ্রিয় মন্ত্রিসভার এই রদবদলে আবার ভাগ্য খুলে যেতে পারে আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনা ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন যারা। যদিও মন্ত্রিত্বের আশায় রয়েছেন বিজেপির শরিক দলের বেশ কয়েকজন সাংসদ, প্রাক্তন মন্ত্রীরাও।

এরই মধ্যে বুধবার মোদী মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে খোলাখুলি কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা সেটা জানা যায়নি, তবে খুব শীঘ্রই যে মোদী মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল হচ্ছে এনিয়ে কোনও সংশয় নেই। কারণ, কেন্দ্র সরকার নিজেদের স্বচ্ছ ইমেজ ধরে রাখতে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ থাকা কোনও সাংসদকে আর মন্ত্রিসভায় রাখতে চাইছে না এবং এটা জলের মতো স্পষ্ট। আর তারই প্রথম উদাহরণ হতে পারেন ধর্মেন্দ্র।