গ্রেফতার হওয়ার পরও ‘হম্বিতম্বি’ রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের
পরিতোষ রায় ও পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: মত্ত অবস্থায় গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে গ্রেফতার রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। নিউটাউনের সর্চি মোড় থেকে তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতার হওয়ার পরও বিন্দুমাত্র দমতে নারাজ। রীতিমত হুমকি দিতে থাকেন পুলিশকে। সোমবার রাতে এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
রাত তখন অনেকটাই। নিউটাউনের সর্চি সিগনালের কাছে একটি বাইকে ধাক্কা মারে প্রশান্ত বর্মনের গাড়ি। গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রশান্তই। গাড়ি আটকালেই গাড়ি থেকে নেমে তিনি পাল্টা চড়াও হন বাইক আরোহীর উপর। হুমকি, গালাগালি দিতে থাকেন তিনি। বাইক আরোহী ও স্থানীয় পথচারীরা প্রতিবাদ করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরা। পুলিশ আসতেই আরও বেড়ে যায় হম্বিতম্বি।
প্রশান্ত বর্মন মদ্যপ ছিলেন বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনার পরও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। কার্যত ‘মস্তানি‘ করতে দেখা যায় রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিওকে। তাঁর স্মেল-টেস্ট করানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি পুলিশকে কার্যত হুমকি দিতে থাকেন। গোটা ঘটনা স্থানীয়রাই ক্যামেরাবন্দি করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তা ভাইরাল। এরপরই তাঁকে আটক করে পুলিশ। ইকো পার্ক থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৫-এর অক্টোবরে নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালধার থেকে উদ্ধার হয় সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। নাম জড়ায় প্রশান্ত বর্মনের। ওই খুনের ঘটনায় বারাসাত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশও চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ। তার পর থেকেই ‘ফেরার’ ছিলেন প্রশান্ত। অবশেষে তিনি গ্রেফতার হলেন।