শিলিগুড়িতে বন্ধ হল ‘টক টু মেয়র’, চালু হল ‘সরাসরি শঙ্কর’

13

প্রসেনজিৎ রাহা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে আপাতত বন্ধ ‘টক টু মেয়র’। ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ‘টক টু মেয়র’ বন্ধ করে দেন পুর প্রধান গৌতম দেব। বাড়িতে বসে চালু করেছিলেন ‘গৌতমকে বলো’ কর্মসূচি। কিন্তু শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের পর তাও বন্ধ করে দিলেন গৌতম দেব। বদলে শঙ্কর ঘোষ চালু করলেন ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচি।

কলকাতা পুরসভার ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির আদলে শিলিগুড়িতেও একই কর্মসূচি শুরু করেন গৌতম দেব। মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনে তা সমাধানের চেষ্টা করতেন শিলিগুড়ি পুর নিগমের মেয়র। কিন্তু ছেদ আসে ভোটের সময়। শিলিগুড়ির মেয়রের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ করেন অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। এরপর নানা ভাবে তা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করলেও এবার তা বন্ধ করে দিলেন মেয়র নিজেই।

গৌতম দেব যখন ‘টক টু মেয়র’ বন্ধ করে দিচ্ছেন, তখনই শনিবার থেকে ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচি চালু করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। শঙ্কর ঘোষ শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে দু’বারের বিধায়ক। জনপ্রিয় নেতাও। ফলে বাঘাযতীন পার্কে তাঁর ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে মানুষের হাজিরাও নজরকাড়া। এই কর্মসূচিতে কয়েকশো মানুষ উপস্থিত হয়ে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতির শিকার চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা নিজেদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা বিধায়কের কাছে জানান। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগও শোনেন শঙ্কর ঘোষ। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানান, ‘মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ ভবিষ্যতেও সময় ও সুযোগ অনুযায়ী এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

শিলিগুড়ির বিধায়কের এই উদ্যোগে খুশি শহরের মানুষ। শুধু শিলিগুড়ি নয়, ভিন জেলা থেকেও বহু মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসেন। বিধায়ককে কাছে পেয়ে খুশি সকলেই।