SFI-এর মিছিল শুরু হতেই আটকে দিল পুলিশ, পাল্টা গোলপার্ক থেকে মিছিল ABVP-র, অশান্তিতে FIR

29

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জি বি মিটিং ঘিরে এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষ। বুধবার মধ্যরাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর চত্বর। আজও সেই অশান্তির আঁচ রয়েছে।

মিছিল – পাল্টা মিছিল। ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল দুই পক্ষের তরফে। প্রশাসন তৈরি থাকলেও, উত্তপ্ত হবে পরিস্থিতি এটা আগাম জানাই ছিল।‌

ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট ফেডারেশনস্‌ এর সদস্যেরা যাদবপুর এইটবি থেকে মিছিল শুরু করে। পাল্টা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এর মিছিল শুরু হয় গোলপার্ক থেকে। বিশাল পুলিশবাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা ওই এলাকায়।

এসএফআই-এর মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাওয়ার মূল রাস্তায় ওঠার আগেই পুলিশ আটকে দেয়। অন্যদিকে, গোলপার্ক থেকে এবিভিপি-র মিছিল শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেট পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও যাদবপুর থানায় এই মিছিল আটকে দেওয়া হ‌ওয়ার সম্ভাবনা। ।‌ যাদবপুর থানায় গার্ডরেল দিয়ে পুলিশ ব্যারিকেট করে দিয়েছে। ‌

সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর এই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে জানান, ‘‘বিধায়কের প্ররোচনায় এই অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। জিবি মিটিং বেআইনি কে বলল? প্রথম থেকে অশান্তি করার চেষ্টা করেছে। যাঁরা ভোট দিয়ে বিজেপিকে নিয়ে এসেছেন, আমি তাঁদের বলব, দেখুন কাদের এনেছেন । এরাঁ অস্ত্র দেখাচ্ছেন, গতকাল ক্যম্পাসের ভিতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।”

এসএফআই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এবিভিপি-র মিছিল যদি যাদবপুর থানা থেকে ক্যাম্পাসের দিকে এগিয়ে যায় ,তা হলে তারা সেটা মেনে নেবে না। পাল্টা তারাও মিছিল করবেন। ‌

এবিভিপির এক সমর্থক বলেন, “আজকের জাতীয়তাবাদী ছাত্র-ছাত্রীরা, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত অভিযান করছে। নকশালরা যেখানে আঁতুড়ঘর করছে, সেখানে কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হবে। এসএফআই-র দিন শেষ।”

গতকাল সন্ধ্যায় জিবি বৈঠক ডেকেছিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এবিভিপির দাবি ছিল, বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তাই এই মিটিং ডাকার অধিকারও নেই। এই নিয়েই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সেই বচসায় জড়িয়ে পড়ে এসএফআই-ও। দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের যাদবপুরের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বুধবার মধ্যরাতে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে যাদবপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেন বিই তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অরিত্র সরকার। এফআইআরে আইপিসি ও এসসি-এসটি আইনের একাধিক ধারায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্যের পুলিশি সহায়তার আবেদন জানান। তার ভিত্তিতে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে বহিরাগতদের বার করে দিয়েছে।