নিউজ ডেস্ক: আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের পরই গর্জে উঠেছিলেন তিনি। সেই তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সোমবার। তৃণমূল দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নয়াদিল্লিতে তিনি ইস্তফাপত্র জমা দিতে উপরাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছন। সাংবাদিকদেরও মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। নানা বিষয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভও জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

সুখেন্দুর বক্তব্য, ‘১৯৫২ সালে ২৬০ আসন ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। তখন কংগ্রেস পেয়েছিল ১৫০ আসন। বাম মোর্চা পেয়েছিল ৫৬ আসন। জন সংঘ (বর্তমানে বিজেপি) পেয়েছিল ৯ আসন। হিন্দু মহাসভা আসন পায় ৪ আসন।’ মাত্র ৯ আসন থেকে এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্তি ২০৮ আসন। যা নিয়ে সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সুখেন্দশেখর রায়ের দাবি, ‘কিছুদিন পর ২১০ হতে পারে।’ সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থনেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় গেল অথচ তৃণমূলের প্রতি কেন মানুষের এতো রাগ তা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি দলে, দাবি বর্ষীয়ান নেতার। গত ১৫ বছরে তৃণমূলের মন্ত্রী, পঞ্চায়েতের নেতা, কাউন্সিলরদের দুর্নীতি নিয়েও সরব সুখেন্দু।
ইস্তফার কারণ নিয়ে তাঁর দাবি, যে ভাবে দলের চলা উচিত, তা এত দিন চলেনি। সুখেন্দুর দাবি, দলীয় নেতাদের অধিকাংশকেই স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া হত না। বিভিন্ন কমিটির মাথায় যে সব নেতা ছিলেন, তাঁদের মতামত নেওয়া হত না। তাঁর বক্তব্য, এক রকম নিরুপায় হয়ে অনেকেই এটা মেনে নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য রাজ্যবাসী তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কেন এত বড় বিপর্যয় ঘটল, তার কারণ জানার চেষ্টা করা হয়নি।