কিছুটা স্বস্তি, দেশে কমল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম

36

নিউজ ডেস্ক: একধাক্কায় অনেকটা কমল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমেছে ১৭৪ টাকা। ফলে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১ টাকা। কিন্তু গৃহস্থের রান্নার গ্যাস, ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তা ৯৬৮ টাকা।
মাসের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের দাম ঘোষণা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার উপর এই দাম নির্ভর করে। কখনও বাড়ানো হয় আবার কখনও কমানো হয়। যদিও গত কয়েকমাস ধরে লাগাতার বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছিল। তথ্য বলছে, এবছরের প্রথমদিনেই একধাক্কায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি হয় ১১১ টাকা। এমনকি ১ ফেব্রুয়ারিতেও আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি হয় বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। মার্চের শুরুতে দাম বাড়ানো হয় ৩১ টাকা। এপ্রিল মাসে যুদ্ধের আবহে একধাক্কায় ২১৮ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মে মাসে সেটা বাড়ানো হয়েছিল ৯৯৩ টাকা। জুনে তা বাড়ে ৫৩ টাকা।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায়, তেল ও লিক্যুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে সংকট ছিল।
গত তিন মাসে দু’বার রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়। গত ৭ জুন (রবিবার)সিলিন্ডারপিছু গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৯৬৮ টাকা। আগে ছিল ৯৩৯ টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে পেট্রল ও ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে একেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ। গত ১ জুন সিলিন্ডারপিছু বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৩২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা। এর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় দাম বেড়েছিল ১৪.২ কেজির গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের‌ও।
মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পেট্রোপণ্যের দাম বেড়েছে। যে কারণে গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। তবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী খুলতেই ধীরে ধীরে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক হচ্ছে। সেই কারণেই কমল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম।
তবে ১৪ কেজির সিলিন্ডারের দাম কবে পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং কেন্দ্রের মূল্যনীতির উপর।
এদিকে, পেট্রল-ডিজেলের দাম কমিয়েছে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা নায়ারা এনার্জি। এখন নায়ারার পাম্পে লিটারপিছু পেট্রলের দাম ৫ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ৩ টাকা করে কমে পাওয়া যাবে।
দুবছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও জ্বালানি সংস্থা খুচরো বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমাল। তবে ভারতে ৯০ শতাংশ পেট্রল পাম্প রয়েছে তিনটি বড় সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম বা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের হাতে। সেখানে পেট্রল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিতই রয়েছে।
গোটা দেশে এক লক্ষের বেশি পেট্রল পাম্পের মধ্যে মাত্র ৭০০টি পাম্প নায়ারার। ফলে নায়ারা জ্বালানির তেলের দাম কমালেও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি দাম না কমানো পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক হারে কোনও সাশ্রয়ের সম্ভাবনা নেই।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামও অনেকটা নিম্নমুখী। ভারতে ব্যারেলপিছু অশোধিত তেলের আমদানি খরচ ৭০ ডলারের নীচে নেমেছে। তারপরও দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমার আশু কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, খুচরো বাজারে এখনই জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এত দিন সংস্থাগুলির যে লোকসান হয়েছে, তা তারা আগে পুষিয়ে নিতে চাইবে।