২ বছর ধরে রাকিবুল পেয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’! নজর মুখ্যমন্ত্রীর, টাকা কি ফেরাতে হবে?

14

বিনয় রায়, মুর্শিদাবাদ: শিয়ালমারার রাকিবুল শেখ দিব্যি মেয়ে সেজে বছর দুই ধরে নিচ্ছিলেন লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা! তার সেই কারসাজি ধরা পড়ে গেল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধরলেন সেই দুর্নীতি।

বুধবার নবান্নে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ এবং তার সুবিধা কীভাবে উপভোক্তারা পাবেন তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী জানান মুর্শিদাবাদের শিয়ালমারার রাকিবুল শেখ নামে এক ব্যক্তি জালিয়াতি করে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই শোরগোল পড়ে যায় প্রশাসনিক মহলে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহরমপুর থানার রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শিয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক রাকিবুল শেখ নামে এক ব্যক্তি নাম পরিচয় ভাড়িয়ে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ লক্ষীর ভান্ডারে টাকা প্রায় দু’বছর ধরে আত্মসাৎ করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বহরমপুর থানার পুলিশ রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নবান্নে বলেন, ‘শুধুমাত্র রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন, কোনও রাকিবুল নয়।’

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হতেই লক্ষীর ভান্ডারে টাকা বিলির ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ জেলায় চূড়ান্ত দুর্নীতির ছবি প্রকাশ্যে চলে আসায় একাধিক প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। কী করে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ অর্থ বিগত প্রায় দু’বছর ধরে রাকিবুল শেখের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকলো? এটা কী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি না গাফিলতি? এরকম ঘটনা কি আরও হয়েছে, না এটা একটা ব্যাতিক্রমী ঘটনা মাত্র? দুর্নীতি হলে রাকিবুল ছাড়া আর কোন কোন তৎকালীন শাসক দলের নেতা বা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা যুক্ত? অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। যদিও রাকিবুল শেখের দাবি কী ভাবে এবং কেন লক্ষীর ভান্ডারের টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতো তা তিনি জানেন না। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ।