হাইড্রোজেনেই চলবে ট্রেন, ভারতীয় রেলে মাইল ফলক

30

নিউজ ডেস্ক: রেল মানচিত্রে নয়া মাইল ফলক ভারতের। এবার হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালুর পথে ভারত। ১০ বগির এই ট্রেনটি শীঘ্রই দেশে চালু হবে। প্রতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই ট্রেন।

দেশের সবুজ, শক্তি-সাশ্রয়ী এবং টেকসই পরিবহনের পথে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই নয়া উদ্ভাবনীকে।
বিশ্বে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চলে জার্মানি, জাপান, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পরিচ্ছন্ন রেল পরিবহনের লক্ষ্যে হাইড্রোজেনের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে। সেই তালিকায় এবার জায়গা করে নিল ভারতও।

হরিয়ানার ‘জিন্দ-সোনিপথ’ রুটে ১০বগির এই হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল-ভিত্তিক ট্রেনসেট চালুর অনুমোদন পেয়েছে। ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াটের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেমে চালিত ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার।
ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের জাতীয় পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং ‘নেট-জিরো’ কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে এই ট্রেন।’

হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন কীভাবে কাজ করে?
ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ১০০ শতাংশ ট্রেনই বিদ্যুৎ চালিত। ইড্রোজেন-চালিত ট্রেন চালুর মাধ্যমে ভারতীয় রেল এমন এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল যেখানে ট্রেনগুলি তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিজেরাই ট্রেনের ভেতরেই উৎপাদন করে নেয়। হাইড্রোজেনকে ব্যবহার করে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একমাত্র বর্জ্য হিসেবে নির্গত হয় জলীয় বাষ্প। ঠিক এই কারণেই, প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার একটি পরিচ্ছন্ন বিকল্প হিসেবে এটি বিবেচিত হয়। জিন্দ-সোনিপথ অংশের জন্য, জিন্দে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদন দিয়েছে ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন’ (PESO)।

শুরুতে এই ট্রেন চালাতে প্রশিক্ষিত কর্মীরাই থাকবেন। কারণ নিরাপত্তা ও সতর্কতার দিকে বিশেষ নজর রাখছে রেল কর্তৃপক্ষ। যেহেতু এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই এখন শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক দেশই এই ধরনের সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং সিস্টেমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ:
গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীদের মোতায়েন করা হবে। নিয়মিত পরিদর্শন এবং রক্ষণাবেক্ষণে জোর। হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিতরণ কেন্দ্রে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর এবং ফ্লেম ডিটেক্টর সহ বিভিন্ন ত্রুটি ধরতে সেন্সর পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। ধুলো জমা রোধ করতেও নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর থাকবে।

হাইড্রোজেন-চালিত শাটল বাস:
ভারত সরকার হাইড্রোজেন চালিত শাটল বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে, দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় এই বাস পরিষেবা চালু করেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL) ডিএমআরসি-কে দুটি হাইড্রোজেন-চালিত বাস সরবরাহ করেছে। প্রতি বাসে ৩৫ জন যাত্রীর বসার জায়গা। বাসগুলিতে জিপিএস-ভিত্তিক ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।