মমতাকে ফেলে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল সাংসদদের একাংশ, বৈঠকে দেব

39

নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে রাজনীতির মেঘ পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলায় তখন গম্ভীর মুখ। সোমবার যেন দেশের রাজধানীতে পরতে পরতে টুইস্ট। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে। ঠিক সেই সময়ই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূলের প্রায় ১৪ বিক্ষুব্ধ সাংসদ। সূত্রের খবর তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা মানতে না রাজ। তাই তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মতো বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা আলাদা একটি ব্লক গড়ে লোকসভায় বিরোধী সাংসদ হিসেবে থাকার কৌশলী বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের খবর।

তাৎপর্যপূর্ণ হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠনের দায়িত্বে থাকা নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবনে বৈঠক করেছেন তৃণমূলের সাংসদরা। সেই বৈঠকে ছিলেন সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগী সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবারই তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তারপরই প্রায় ২০ তৃণমূল সাংসদ গোপনে বৈঠক করেন বলে খবর। সেই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাংসদরাও। পার্থ ভৌমিকও যান সেই বৈঠকে। এমনকি ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী তথা দেব-ও নাকি দিল্লির বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অর্থাৎ, সোমবারের মধ্যেই যে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের মতো সংসদেও একই চেত্র দেখা যেতে পারে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল সাংসদের গোপন বৈঠক:

শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, আবুতাহের খান, খলিলুর রহমান, আসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সোরেন, জগদিশবর্মা বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, সুখেন্দুশেখর রায়, আখরুজ্জামান (তৃণমূল বিধায়ক)

এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ২০৮ আসনে জিতে সরকার গড়েছে। এরপরই তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মানতে নারাজ। উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা মেনে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক আলাদাভাবে বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা লাভ করেছে। স্পিকার তাতে সম্মতি দিয়েছেন।

কিছুদিন আগে আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা সহ ৭ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্যসভায় আপের সাংসদ সংখ্যা ছিল ১০। তাঁদের অধিকাংশই পঞ্জাবের। এর মধ্যে থেকে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বিজেপি-তে চলে যাওয়ায় রাজ্যসভায় আপের প্রতিনিধিত্ব মাত্র তিন জন থাকলেন। এখন রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভার কমিটি অন পিটিশনের চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছে বিজেপিই। এই প্যানেল রাজ্যসভায় জমা পড়া জনগণের অভিযোগ ও পিটিশন খতিয়ে দেখে। আম আদমি পার্টিতে থাকাকালীন জনগণের সমস্যা ও তাদের দাবি-দাওয়ার কথা বলেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন রাঘব চাড্ডা। তবে এরপরই আম আদমি পার্টি তাঁর কাছ থেকে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখার অধিকার ছিনিয়ে নেয়। এবার কি পালা তৃণমূলের?