অস্ত্রোপচারের সময় সিনেমা দেখছিলেন চিকিৎসকরা! সব জানেন রোগী

25

নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করছেন। সব দেখলেন রোগী নিজেই। শুধু তাই নয় চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীও ‘ওজি’ সিনেমা দেখলেন! অথচ অপারেশন হয়ে গেলো।

এমনই ঘটনা ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে। একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এক মহিলার মাথ থেকে টিউমারের অস্ত্রোপচার করছিলেন। এই অপারেশনের জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেন চিকিৎসকরা। অন্ধ্রপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা অভিনেতা পবন কল্যাণ অভিনীত ‘THEY CALL HIM OG’ সিনেমা চালিয়ে দেন চিকিৎসকরা।


এটি একটি অপারেশনের কৌশল। যাঁর অস্ত্রোপচার হবে সেই মহিলা সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। জেগে থাকা অবস্থায় মহিলার মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রকাশম জেলার বাসিন্দা কোটেশ্বরম্মার ‘অ্যাওয়েক ব্রেইন সার্জারি’ বা ‘জাগ্রত মস্তিষ্ক অস্ত্রোপচার’ করা হয়। এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে রোগীকে (জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে) সম্পূর্ণ অচেতন রাখা হয় না। অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে শান্ত, সজাগ রাখতে চলচ্চিত্রের দৃশ্য দেখানো হয়েছিল।

চিকিৎসক দলের মতে, কোটেশ্বরম্মা মস্তিষ্কের টিউমার সংক্রান্ত উপসর্গে ভুগছিলেন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। স্ক্যান ও পরীক্ষার পর, চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন ‘অ্যাওয়েক ব্রেইন সার্জারি’ (রোগী সচেতন থাকা অবস্থায় করা অস্ত্রোপচার) করা যেতে পারে। কারণ টিউমারটি মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত ছিল যা কথা বলা এবং শারীরিক নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।

যে ডাক্তার অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি কী বলেছিলেন?
নিউরোসার্জন ডা. অরুণ কুমার ও ডা. রাজশেখর অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, নার্স এবং টেকনিশিয়ানদের একটি দলের সঙ্গে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক অরুণ কুমার বলেন, ‘সচেতন অবস্থায় মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের সময়, রোগী কিছু সময় পর্যন্ত সচেতন থাকেন, ফলে আমরা তার কথা বলা, স্মৃতিশক্তি এবং শারীরিক নড়াচড়া (মোটর ফাংশন) ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করতে পারি। এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অক্ষত রেখে আরও নিরাপদে টিউমার অপসারণ করতে সাহায্য করে।’
চিকিৎসকদের মতে, ‘অস্ত্রোপচারের সময় রোগী প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। সিনেমাও দেখছিলেন। সিনেমা দেখার জন্য রোগীর উদ্বেগ কিছুটা কম ছিল এবং অস্ত্রোপচারের কঠিন পর্যায়গুলোতে তাঁর মনোযোগ অন্য দিকে রাখতে সাহায্য করেছিল।’

কেন ওজি সিনেমা দেখানো হল?
যেহেতু রোগী পবন কল্যাণের বড় ভক্ত। ‘ওজি’ সিনেমার দৃশ্যগুলো দেখানোর ফলে তিনি শান্ত ছিলেন এবং সহযোগিতাও করছিলেন। ফলে অস্ত্রোপচারে সুবিধা হয়। জটিলতা ছাড়াই টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে এবং রোগী ভালোভাবে সেরে উঠছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।