নিউজ ডেস্ক: ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (IMA)-র ইতিহাসে মাইলফলক। একসঙ্গে ৯ মহিলা ক্যাডেট এবার ভারতীয় সেনায় জায়গা করে নিলেন। আইএমএ (IMA)-এর ৯৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম পুরুষ ক্যাডেটদের পাশাপাশি মহিলারাও সফলভাবে তাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে আইএমএ-তে যোগ দেন এই মহিলারা। এই ৯ বীরাঙ্গনা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সরাসরি ‘পার্মানেন্ট কমিশন’ বা স্থায়ী পদে নিযুক্ত নারী অফিসারদের প্রথম ব্যাচ। এতদিন পর্যন্ত মহিলা অফিসাররা প্রথমে ‘শর্ট সার্ভিস কমিশন’ অফিসার হিসেবে যোগ দিতেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়কাল দায়িত্ব পালনের পরই ‘পার্মানেন্ট কমিশন’-এর জন্য যোগ্য বিবেচিত হতেন। সেই প্রথার অবসান হল শনিবার।
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক পাসিং আউট প্যারেডে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পদমর্যাদা বলে দেশের রাষ্ট্রপতি সেনার সুপ্রিম কম্যান্ডার ৷ এই মুহূর্তটিকে ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা বলে অভিহিত করেন রাষ্ট্রপতি।
এই ৯ মহিলা অফিসারের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী রায়ের পর ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি (NDA) প্রথমবার মহিলা ক্যাডেটদের ভর্তি নেয়। দেশের সামরিক প্রশিক্ষণের অ্যাকাডেমি (আইএমএ)-তে ৯জন মহিলা ক্যাডেটের অন্তর্ভুক্তিকে ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ বলে উল্লেখ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শনিবার উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ১৫৮তম রেগুলার কোর্স এবং ১৪১ টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট কোর্স-এর পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
আইএমএ-তে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তিকে নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে আরও অনেক নারী ক্যাডেট এই অ্যাকাডেমিতে যোগ দেবেন।’ ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে ৫১৫ জন জেন্টলম্যান ও লেডি ক্যাডেট ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলেন। উত্তীর্ণ ক্যাডেটদের দলে ১৬টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের ৩৪ জন অফিসার ক্যাডেটও রয়েছেন। তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেবেন ৷
১৯৩২ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি। তারপর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৫ হাজারেরও বেশি ক্যাডেট উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এতদিন পর্যন্ত শুধু অফিসার পদে মহিলা নিয়োগ করত ভারতীয় সেনা। কিন্তু তা ছিল বেশ কম। পদাতিক বাহিনী, যুদ্ধ ক্ষেত্র, সাঁজোয়া বাহিনী, যন্ত্রনির্ভর বাহিনীতে মহিলাদের স্থান ছিল না। ছবিটা পাল্টায় ২০১৯ সালে। প্রথম সামরিক বাহিনীতে মহিলা নিয়োগে সম্মতি জানায় ভারতীয় সেনা। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের কোনও সেনাবাহিনীতেই মহিলাদের সুযোগ ছিল সিকিভাগেরও কম। আর যুদ্ধের জন্য মহিলাদের ভূমিকার কথা তো কেউ ভাবতেই পারে না। যোদ্ধার বেশে পুরুষকেই মানায়। জীবনযুদ্ধে মহিলারা ঢাল-বন্দুক নিয়ে দাঁড়াতে সক্ষম, কিন্তু দেশের জন্য বীর হয়ে প্রাণত্যাগ করার সাহস যে একজন মহিলার থাকতে পারে, তা কস্মিনকালে কোনও পুরুষের মাথায় আসেনি।
১৮৮৮ সালে ব্রিটিশ রাজের সময় ভারতীয় সামরিক নার্সিং সার্ভিসের মাধ্যমে মহিলারা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে শুরু করে। ১৯১৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সেনার নার্সরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কাজ করেছিল। যেখানে প্রায় ৩৫০জন নার্স মারা যায়, বন্দি হোন ও পরবর্তীকালে নিখোঁজ বলে ঘোষণা করা হয়।
অসম রাইফেলসের আধাসামরিক বাহিনীর প্ল্যাটুন থেকে মহিলা সেনানীদের নিয়োগ করা হয়েছে এর আগে। ভারত সরকারের সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরিষেবা অনুসারে ১৯৯২ সালে নন-মেডিক্যাল ভূমিকায় মহিলাদের প্রথম সেনাবাহিনীতে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে লাইবেরিয়াতে মোতায়েন করা ১০৫ জন ভারতীয় মহিলার সমন্বয়ে জাতিসংঘের জন্য প্রথম সর্ব-মহিলা শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠিত হয়েছিল।