নিউজ ডেক্স : অবশেষে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ভার্চুয়ালি। বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সমঝোতাপত্রের শিরোনামে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নাম করা হয়েছে পাকিস্তানের। চুক্তির বেশ কয়েকটি শর্ত প্রকাশ্যে এনেছেন মার্কিন আধিকারিকেরা। তবে ইরানের তরফে শর্তের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মূল সমঝোতা শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বাক্ষরিত হবে।
চুক্তির শর্তে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত আমেরিকা-ইরান। আমেরিকা আর ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাবে এবং কেউ অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। চূড়ান্ত চুক্তিস্বাক্ষরের আগে আমেরিকা এবং ইরান ৬০ দিন ধরে আলোচনা করবে। সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের পরেই হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু হবে। ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেবে আমেরিকা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে আমেরিকা এবং সহযোগী দেশগুলি। কীভাবে এই প্রকল্প কার্যকর করা হবে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় চূড়ান্ত হবে। ইরানের তেল এবং জ্বালানির ওপর বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা। ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না-করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। ইরানকে তেল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম সামগ্রী বিক্রি করার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে।
সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষরের পরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তিতে ইজরায়েল বিপন্মুক্ত হবে বলেই দাবি ট্রাম্পের। জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের আগে নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। ইরানের পরমাণু হামলা থেকে ইজরায়লেকে রক্ষা করা হল এই চুক্তির ফলে, দাবি ট্রাম্পের।
যদিও এই সপ্তাহের শুরুতেই নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, হিজবুল্লার বিরুদ্ধে লেবাননে অভিযান চলবেই। সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটবে না ইজরায়েল। নেতানিয়াহু বলেছেন, যত দিন আমি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকব, তত দিন লেবাননে অভিযান চলবেই।