জনি ভট্টাচার্য, কুমারঘাটঃ গোটা ত্রিপুরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য এই মুহূর্তে আকাশছোঁয়া। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের পাবিয়াছড়া বাজারেও পড়েছে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব। জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শাকসবজি, তেল-মসলা থেকে শুরু করে কসমেটিক্স, কাপড়, বাসনপত্র সহ সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে প্রতিদিনই বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু বাজারে ঢোকেই গ্রাহকদের চোখ চড়কগাছ। একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সংসারের বাজেট সামলানো সাধারণ মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের পাবিয়াছড়া বাজারেও ধরা পড়েছে সেই ছবি। খাদ্য সামগ্রী থেকে কসমেটিক্স সহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম এখন মহার্ঘ।
আগের তুলনায় দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের চেয়ে কম বাজার করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন বহু ক্রেতা। সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসাতেও। দোকানদারদেরও মাথায় হাত। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই অধিক দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাঁদের। রয়েছে পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও। এসব কারণে খুচরা বাজারেও বেড়েছে দাম। এতে একদিকে যেমন বিক্রি কমেছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ও দেখা দিয়েছে চরম মন্দা।
পাবিয়াছড়া বাজারের এক ব্যবসায়ী স্বপন রায় বলেন, বর্তমানে অনেকটাই মন্দা চলছে ব্যবসায়। তিনি বলেন দিনমজুরদের কেনাকাটার উপরই নির্ভর করে তাঁদের ব্যবসা। আর সেই দিনমজুরদের হাতে টাকা না থাকায় মন্দা দেখা দিয়েছে বাজারে। বিগত ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছেন তিনি কিন্তু বাজারে জিনিসপত্রের এমন আকাশ ছোঁয়া দাম আগে কখনও ছিল না বলেই দাবি স্বপনের।
পাবিয়াছড়া বাজারের আরেক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নির্মল কুমার দে বলেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মন্দা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়। রাজ্যে কাজের অভাব, তাই শ্রমিক শ্রেণীর হাতে নেই টাকা। এদিকে, বাজারে জিনিসপত্রের অত্যধিক দাম। ফলে দিনমজুররা সেই তুলনায় বাজর করছেন না। কয়েক বছর আগেও বাজারে এসে কেজি-কেজি আলু পেঁয়াজ কিনতেন যারা, তাঁরা এখন আর সেভাবে কিনছেন না।