পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিদের লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান কলকাতা হাইকোর্টের। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কোনও অভিযুক্তকে আদালত বা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, তা ঠিক করবে সরকার। অভিযুক্তদের সুরক্ষা দেওয়া রাজ্যের দায়িত্ব।
ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাকে হালকা নয়। তার আইনি পরিণতি ভাল না। এই ধারণা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের। সরকারের কাছে গাইডলাইন চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। এই মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শুধু দু’একজনকে গ্রেফতার করেই দায়িত্ব শেষ, এই মনোভাব রাখবেন না। এই ধরনের কাজ করলে কী শাস্তি হতে পারে, তা মানুষকে জানানো প্রয়োজন।
শুনানির সময় বিচারপতি রাজ্যের কাছে জানতে চায়, কোনও বন্দি বা অভিযুক্তকে এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে কিনা ? কারণ ডিম ছোঁড়া এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজ্যের আইনজীবি জানান, এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য না। কোথাও অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একাধিক এফআইআর দায়ের , গ্রেফতারও করা হয়েছে । ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাল্টা জানান, “বিষয়টা শুধু কাউকে গ্রেফতার করা নয়। এই ধরনের কাজ করলে কী হতে পারে, সেই বার্তা সমাজের কাছে পৌঁছনো জরুরি।”
এই মামলায় বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।” আদালতের মতে, কোনও ব্যক্তি অভিযুক্ত হলেই তাঁর মৌলিক অধিকার শেষ হয়ে যায় না। আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় তাঁকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে প্রশাসনকে।
শুনানির সময় তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে আছেন।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অভিযুক্তদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এড়াতে পারে না প্রশাসন। মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পর। রাজ্যকে আরও বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে ।