নিউজ ডেস্ক: অসমের অঙ্কিতা কোঁয়র ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সাঁতারপথ ইংলিশ চ্যানেল। যা ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত।
একটি আন্তর্জাতিক রিলে দলের অংশ ছিল সাঁতার। ইংল্যান্ডের ডোভার থেকে ফ্রান্সের ক্যালে পৌঁছতে অঙ্কিতার সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট। মাঝরাতে দেড়টায় শুরু করে একটানা সাঁতরে লন্ডনের সময় দুপুর ২.৩৫ মিনিটে ক্যালে পৌঁছন অঙ্কিতা। একা অঙ্কিতা নন, ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক রিলের দলের সদস্যরা।
বিশ্বের সহনশীলতার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য করা হয় ইংলিশ চ্যানেলকে। দূরপাল্লার সাঁতারুদের অন্যতম লক্ষ্য সাঁতরে ইংলিশ চ্যানেল পার করার। এর বরফশীতল তাপমাত্রা, তীব্র স্রোত, অভাবনীয় ঘুর্ণি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে এটি সবসময় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে সাঁতারুদের কাছে।
অঙ্কিতা কোঁওয়েরর সাফল্য আরেকটি কারণে উল্লেখযোগ্য যে মাত্র তিন বছর আগে সাঁতার শিখেছেন তিনি। এরপরই তিনি ভারতের এনডুরেন্স অ্যাথলিট হিসেবে নাম করেছেন। বার্সিলোনায় সমাপ্ত করেছেন ফুল আয়রনম্যান কোর্স, দুবাইয়ে অংশ নেন টি১০০ ট্রায়াথলনে আর তাঁর মুকুটে যুক্ত হল ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার রঙিন পালক।
সাফল্যের পর অঙ্কিতা বলেছেন, ইংলিশ চ্যানেল পেরনো শুধু সাঁতার নয়, বরং আরও কিছু। সহনশীলতা, টিমওয়ার্ক এবং নিজের অবিরাম আস্থা রাখা ছিল বড় বিষয়। আর আমার মতো একজনের কাছে, যে কয়েক বছর আগেও সাঁতার কাটতেও জানত না ইংলিশ চ্যানেল পেরনো বিশাল কৃতিত্ব। অসম ও গোটা উত্তর-পূর্বের প্রতিনিধি হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ভারতের পতাকা তুলে ধরেছি। আশা করি, এরপর অসম ও উত্তর-পূর্বের অনেক মেয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার করার স্বপ্ন দেখবে এবং সফল হবে।
প্রথম ভারতীয় এবং প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯৫৮ সালে মিহির সেন ডোভার থেকে ক্যালে পর্যন্ত সাঁতার কেটে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। প্রথম ভারতীয় তথা প্রথম এশীয় মহিলা হিসেবে ১৯৫৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি সফলভাবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন আরতি সাহা।