নিউজ ডেস্ক: গত ২৩ জুলাই টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে অসমের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত গুয়াহাটিতে অপরিকল্পিত উন্নয়নই এই অবস্থার জন্য দায়ী।
গুয়াহাটিতে অত্যধিক জল জমলেই অসম সরকারের পরিচিত বিবৃতি, প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের জন্যই জল ঢুকেছে গুয়াহাটিতে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্তত এবার অন্য কথা বলছে। অসম সংলগ্ন মেঘালয়ের রিভোই জেলায় বৃষ্টি হয়েছে মত্র ১৮ মিমি। ফলত সেখান থেকে গুয়াহাটিতে জল ঢোকার কোনও প্রশ্নই নেই।
২৩ জুলাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গুয়াহাটির খানাপাড়া, সরুসজাই এবং পাঞ্জাবাড়ি এলাকায় ৯০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আবার বিমানবন্দর সংলগ্ন বরঝাড় এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৯ মিমি। সব জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সমান নয়।
কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই গুয়াহাটির বিভিন্ন রাস্তায় কোমর সমান জল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল গাড়ি আর হাজার হাজার পথযাত্রী জল ঠেলেই এগিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, সর্বোপরি জল ঢুকেছে বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরে।
যে শহরে একদিনে ১৯০ মিমি বৃষ্টিপাতের নজির রয়েছে সেখানে সরকারি তরফে ১০০ মিমির কম বৃষ্টিতে যাবতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত।
গুয়াহাটিতে জল জমার কারণ হিসেবে উঠে আসছে নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নালা-নর্দমা শুধু পরিষ্কার করলেই জল জমা রোধ করা যায় না, দরকার নিখুঁত ডিজাইন, সংযোগশীলতা এবং জল বর্জনের ক্ষমতাও হিসেব করতে হবে। এ ছাড়া রয়েছে যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলার প্রবণতা। প্লাস্টিকের বোতলে ছেয়ে গেছে গুয়াহাটির সব নালা-নর্দমা।
চারদিকে পাহাড় বেষ্টিত গুয়াহাটি প্রকৃতার্থে একটি উপত্যকা। কিন্তু ক্রমাগত পাহাড়ের মাটি কাটার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড় থেকে কাদা-জলের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সমতল এলাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বৃষ্টিতেই গুয়াহাটিতে জল জমার মূল কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়ন। গত ১৩ বছরে গুয়াহাটির জনসংখ্যা বেড়েছে ১৭.৭ শতাংশ। একই সময়ে গুয়াহাটিতে উন্নয়নের কাজ হয়েছে ৬১.২ শতাংশ। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনও ভারসাম্য নেই। কংক্রিটের জঙ্গল ঢেকে দিয়েছে পতিত জমি, জলাভূমি।
গুয়াহাটিতে বেশ কয়েকটি উড়ালপুল তৈরি হয়েছে গত কয়েক বছরে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক নিকাশি ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে। জল কোথায় যাবে, রাস্তার উচ্চতা, মুক্ত জলাভূমির বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে। আর তাই বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছে গুয়াহাটি।
Prev Post