অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য নয়, সরকারি কর্মীদের কড়া নির্দেশ নবান্নের

3

দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, টিভি বা বেসরকারি মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং সরকারের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার উপর কড়া বিধিনিষেধ জারি করল নবান্ন। মঙ্গলবার মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি হওয়া একটি সার্কুলারে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও তথ্য আদানপ্রদান করতে পারবেন না।

২০ মে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর (Personnel & Administrative Reforms Department) থেকে সমস্ত দফতরের সচিব, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, ডিজি-আইজি সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই নির্দেশিকা অবিলম্বে সমস্ত সরকারি কর্মী, পুলিশ কর্মী, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের সদস্য এবং রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে প্রচার করতে হবে।

মুখ্যসচিবের জারি করা সার্কুলারে অল ইন্ডিয়া সার্ভিস কন্ডাক্ট রুলস ১৯৬৮, ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুলস এবং সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে পাঁচ দফা নিষেধাজ্ঞা পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—

১) সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী কোনও স্পনসরড বা বেসরকারিভাবে প্রযোজিত মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের স্পনসর করা হলেও বাইরে থেকে প্রযোজিত কোনও অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি বাধ্যতামূলক।

২) কোনও সরকারি আদেশ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও নথি বা তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে না।

৩) সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সংবাদপত্র, পত্রিকা বা অন্য কোনও প্রকাশনার সম্পাদনা, পরিচালনা বা তাতে লেখা প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে রেডিও সম্প্রচার বা সংবাদপত্রে চিঠি লেখার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

৪) কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরূপ সমালোচনা কোনও প্রকাশনা, বক্তব্য, সম্প্রচার বা মিডিয়ার মাধ্যমে করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫) এমন কোনও মন্তব্য বা প্রকাশনা করা যাবে না, যা রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার বা অন্য কোনও রাজ্য কিংবা বিদেশি সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।

রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি কর্মীদের প্রকাশ্য মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনও আলাদা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নবান্নের এই নির্দেশিকাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।