দেবারতি ঘোষ, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে বিপুল জয়ের বিজেপির তরফে জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়া হবে। এর পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা সেই কাজ শুরু করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজ করতে হবে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার প্রাথমিকভাবে প্রাথমিক ভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সভাঘরের সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ” বিএসএফ তথা ভারত সরকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়ার কাজ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত জমি হস্তান্তরের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার সাড়া দেয়নি তারা অস্বীকার করেছে, তাদের অসহযোগিতার কারণে আমাদের মহান জাতির নিরাপত্তা এবং সেইসাথে আমাদের প্রিয় রাষ্ট্রটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। ২৭ কিমি এলাকাকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটা সূচনা হল। রাজ্যের দেশপ্রেমিক জনগণ এবং আমাদের দক্ষ আধিকারিকেরা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং সহযোগিতা করবেন।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,” অবশেষে, রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি সত্যিকারের দেশপ্রেমিক সরকার তাদের যাত্রা শুরু করেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে, আমাদের আমলারা, বিশেষ করে ভূমি বিভাগ, মাননীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং মুখ্য সচিবের নির্দেশনায়, তারা এখন জমির একটি অংশ হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। এখন আমরা কয়েকটি সীমান্ত ফাঁড়ি জমি এবং বিএসএফ পরিকাঠামো উন্নয়নের জমি সহ ২৭ কিলোমিটার বেড়ার জমি হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।”
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে প্রায় ২২০০ কিমি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ” অসম, ত্রিপুরা সহ অন্যন্য রাজ্যে বিএসএফ-এর চাহিদা মতো জমি দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ২২০০-র মধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ কিমি-তে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করা যায়নি। ৫৫৫ কিমি-তে চাইলেই সরকার জমি দিতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তুষ্টিকরণের জন্য দেওয়া হয়নি। “
অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও কড়া বার্তা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ” যারা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন , তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। তারপর তাঁদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এ রাজ্যকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার বলবৎ করেনি। নতুন সরকার সেই আইন বলবৎ করল। “
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন কয়েক দশক ধরে সীমান্তে বিএসএফ-এর সঙ্গে কোনও বৈঠক হয়নি। নতুন সরকার আসার পর ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে, এবং বিএসএফের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়মিত বৈঠক করবে।
নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের একাধিক স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, জমি হাতে পাওয়ার পর দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণ এবং নজরদারি অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। এর ফলে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপি শিবিরের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের দাবিকেই কার্যকর করেছে নতুন রাজ্য সরকার। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন।