লুকিয়ে থাকলেও ধরা পড়বে! বেলুন খুঁজে দেবে জঙ্গিদের

10

নিউজ ডেস্ক: ভারতের শত্রুর অভাব নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সর্বক্ষণ কুনজরে থাকে ভারত। ইদানিংকালে বাংলাদেশও যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়েছে আমাদের দেশের কাছে। এবার শত্রুদের উপর সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারিতে বিশেষ ভূমিকা নিতে অত্যাধুনিক পরীক্ষার মহড়া করে ফেললেন বিশেষজ্ঞরা। বেলুনের মাধ্যমে মহাকাশে যন্ত্রপাতি পাঠিয়ে কী ভাবে পুরো নজরদারি চালানো যায় সেই অনুশীলন সফল ভাবে সম্পন্ন হল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে। সিউড়ির চন্দ্রপুরে আকাশে বেলুন পাঠিয়ে করা হল পরীক্ষা। বেঙ্গালুরুর পেলোড অফ কনস্টেলেশন এয়ারোস্পেস প্রাইভেট লমিটেড ও ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (ICSP)-এর সহযোগিতায় এই পরীক্ষা হয়। হায়দরাবাদের পর দ্বিতীয় বীরভূমের এই কেন্দ্রটি বেলুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

বেলুন
বীরভূমের চন্দ্রপুরে বেলুন পরীক্ষার সময়ের ছবি। সৌ- ICSP

প্রায় ১০০ ফুট লম্বা স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এই বেলুনে পে-লোডটিতে ছিল উচ্চমানের ক্যামেরা, কম্পিউটার। পুরো পরীক্ষা চলে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৩৫-৪২ কিলোমিটার উপরে। যেখানে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস পঞ্চান্ন (-৫৫) ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীতে কম্পিউটার চালাতে যে তাপ লাগে তা মহাকাশে লাগে না। উপরি পাওনা কম্পিউটার ও সার্ভারকে সুরক্ষিত রাখতে যে তাপমাত্রার প্রয়োজন সবই আছে মহাকাশেই। সেই পরিবেশে কীভাবে দ্রুত পরীক্ষা করে তা ফলপ্রসূ করা যায়। সেই লক্ষেই চন্দ্রপুরে একপ্রকার ট্রায়াল রান হল। কারণ এই স্তরে তাপমাত্রা এমনিতেই ঠান্ডা। হাইড্রোজেন গ্যাসেই বেলুনটিকে ওড়ানো হয়।

এই পেলোডটি মূলত বিভিন্ন উচ্চতায় চিত্রগ্রহণের (imaging) সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে এই প্রযুক্তিটি উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হবে। আইসিএসপির ডিরেক্টর প্রফেসর সন্দীপ চক্রবর্তী উল্লেখ করেন যে, ভারতের যেকোনো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানই ICSP-এর এই বেলুন উৎক্ষেপণ সুবিধাটি ব্যবহার করে তাদের নিজস্ব পেলোড পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ নিতে পারে।

এর মাধ্যমে মহাকাশের অজানা তথ্য সংগ্রহ, মহাশূন্যে ডেটা সেন্টারের সম্ভাবনাও থাকছে। মহাকাশে গবেষণার বিভিন্ন রাস্তাও খুলতে চলেছে এই বেলুন এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে। মহাকাশে পরীক্ষার জন্য স্যাটেলাইট পাঠানোর আগে এই ধরনের সফল পরীক্ষা কম খরচে আগামী দিনে উন্নত পরিষেবায় বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা আইসিএসপি-র ডিরেক্টর প্রফেসর সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, আগামী দিনে এই প্রযুক্তি দেশের প্রতিরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে তাঁর আক্ষেপ, আমেরিকায় ৩৬০ মিলিটারি স্যাটেলাইট রয়েছে। সেখানে ভারতের হাতে মাত্র ৭টি মিলিটারি স্যাটেলাইট। যা অপারেশন সিঁদুরের সময় বিশেষ কাজে লেগেছিল।

চন্দ্রপুরের এই সাড়ে ৬ বিঘা জমিটি আইসিএসপি-র নিজের কেনা জায়গা। কেন বীরভূমের এই জায়গাকে বেছে নেওয়া হল? আইসিএসপি-র ডিরেক্টর প্রফেসর সন্দীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই এলাকায় তেমন বিমান চলে না। তাই বিমান মন্ত্রকের অনুমতি পেতে সুবিধা হয়। এই বেলুন উৎক্ষেপণের পরীক্ষার জন্য পানাগড় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অনুমতির পরই সবকিছু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এবারের পরীক্ষা সফল হওয়ার পর সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইসিএসপির সঙ্গে মৌ সাক্ষরও করতে চলেছে বেঙ্গালুরুর এই স্টার্টআপ সংস্থা।