নিউজ ডেস্কঃ ‘বিরোধী দলনেতার জাত-পাত’ ইস্যুতে এককাট্টা কংগ্রেসের পাশে এবার এনডিএ বিধায়করাও। বরপেটার অগপ বিধায়ক দীপক কুমার দাস বা সিসিবরগাঁওয়ের বিজেপি বিধায়ক জীবন গগৈও কথা বলছেন কংগ্রেসের সুরে।
এক নজরে

কংগ্রেসের পাশে এনডিএ বিধায়করা
‘একজন বিধায়কই হবেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর জাত-পাত দেখার পক্ষপাতী নই আমি।’
স্পষ্ট ভাষায় একথা বলেছেন অগপ বিধায়ক দীপক কুমার দাস। এখানেই শেষ নয়, আরও একধাপ এগিয়ে দীপকের দাবি, ‘সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করে যেতে হবে আমাদের। বিধানসভার গরিমার কথা মাথায় রেখে এগোতে হবে।’ মোদ্দা কথায়, মিঞা বিরোধী দলনেতা শব্দগুলো ব্যবহারে স্পষ্ট আপত্তি রয়েছে এনডিএ জোটের শরিক দল অগপর বিধায়ক দীপকের। এদিকে, সিসিবরগাঁওয়ের বিজেপি বিধায়ক জীবন গগৈ বলছেন, ‘মিঞা, অসমিয়া বলে কিছু হয় না, মানুষ তো মানুষই। নির্বাচিত বিধায়কও একজন সাধারণ মানুষ। এদের মধ্য থেকেই কোনও একজন বিধানসভার বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।’
বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি
অসম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন সংখ্যালঘু কোনও বিধায়কই। গত কয়েকদিন থেকেই এই ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শেষপর্যন্ত অধিবেশনের প্রাক্কালে মুখ খুললেন কংগ্রেস বিধায়করা। দক্ষিণ করিমগঞ্জের নবাগত বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নুরুল হুদা সবাই সরব। শুধু সরব নন, এবার রীতিমতো আগ্রাসী আমিনুর, নুরুলরা। তবে বিষয়টি নিয়ে বুধবার এনডিএ বিধায়কদের কাছ থেকে পাওয়া গেল না কোনও প্রতিক্রিয়া

সব ইস্যুতে এনডিএ-এর বিরুদ্ধে সরব থাকার প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের
শুধু সংখ্যালঘুদের নিয়ে বা নিজ নিজ বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে নয়, রাজ্যের সব সমস্যা নিয়েই সরব থাকার কথা বলছেন কংগ্রেস বিধায়করা। ‘বিধায়কদের কোনও জাত-পাত হয় না। বিধায়ক বিধায়কই, তাঁর কোনও আলাদা পরিচয় নেই। বিধায়কদের হিন্দু বা মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।’ এটা উল্লেখ করে দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ বলেন, ‘প্রথমবার শুনছি এমন কথা। বিধায়ক তো বিধায়কই, তাঁর আবার জাতপতের প্রশ্নটা আসে কোত্থেকে।’
‘অসমের সব জাতি-জনগোষ্ঠীর হয়ে কথা বলবে বিরোধীরা। সংখ্যাগুরুর বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরব থাকবে বিরোধীরা। বরাক, বোড়োল্যান্ডের বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠবে বিধানসভায়।’ এটা উল্লেখ করে মানকাচরের বিধায়ক মহিবুর রহমান বলেন, সব ইস্যুতে সরব থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়েই বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন বিরোধীরা। আর তাই বিধানসভায় ঠিক যেভাবে আসবে বরাকের বিভিন্ন সমস্যার কথা, ঠিক সেভাবেই উঠে আসবে বোড়োল্যান্ডের সমস্যার কথাও। চা বাগান শ্রমিকদের দুর্বিসহ সমস্যার কথাও তুলে ধরবে কংগ্রেস। অকপট মানকাচরের বিধায়ক মহিবুর রহমান। তিনি আরও এনডিএ সরকার ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা নিয়ে তারা সদনের ভেতরে ও বাইরে সরব থাকবেন।

শুধু আমিনুর বা মহিবুর নন, ‘সংখ্যালঘু বিরোধী দলনেতা’ ইস্যু নিয়ে তীব্র ভাষায় এনডিএ সরকারের সমালোচনা করেছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নুরুল হুদাও। এই ইস্যুতে সংবাদ মাধ্যমকেই রীতিমতো টার্গেট করে নেন হুদা। নুরুল হুদার মতে, ‘মিঞা, অসমিয়া, বাঙালি, নেপালি এসবের কী মানে আছে। কেন সংবাদ মাধ্যম কথাগুলো বলছে বারবার। কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ দল। আমি অসমে জন্মগ্রহণ করেছি। অসমিয়া হিসেবে গর্বিত আমি।’ তাই সবাইকে এই সত্যটা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হুদা। যদিও এই ইস্যুতে সবাইকে ছাপিয়ে যান জলেশ্বরের কংগ্রেস বিধায়ক আফতাব উদ্দিন মোল্লা। সংখ্যাগুরু হিন্দুদের সমস্যা নিয়েও বিধানসভায় কথা বলবে কংগ্রেস, সোজাসাপটা মন্তব্য আফতাবের।
সবমিলিয়ে এনডিএ বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে যে ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছিল, শাসক জোটের বিধায়করা সেটা নস্যাৎ করে দেওয়ায় এবার পুরো বিষয়টি যে নড়বড়ে হয়ে গেল এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবি ঘটে কংগ্রেসের এবং মাত্র ১৯টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে দল। কংগ্রেসের নবনির্বাচিত ১৯ বিধায়কের মধ্যে ১৮ জনই সংখ্যালঘু। নাওবৈসার বিধায়ক জয়প্রকাশ দাসকে বাদ দিলে বাকিরা সবাই যেহেতু সংখ্যালঘু, তাই এদের মধ্য থেকেই কোনও একজনকে বিরোধী দলনেতার আসনে বসানো হতে পারে বলে গুঞ্জন চলছে দিশপুর এবং রাজীব ভবনে। এই পরিস্থিতি থেকেই ন্যারেটিভ তৈরি হয়। তবে এতদিন তার কোনও জবাব আসেনি কংগ্রেসের তরফ থেকে। তবে বুধবার সব প্রশ্নের যোগ্য প্রত্যুত্তর দেয় কংগ্রেস।

রামকৃষ্ণ মিশনে মহারাজদের পাশে জাকারিয়া
এখানে এটাও উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কয়েকদিন আগে বৃষ্টির জলে কৃত্রিম বন্যার কবলে যখন গোটা শ্রীভূমি শহর, তখন সারাদিন হাফপ্যান্ট পরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমেদ। রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে মহারাজদের সঙ্গেও কথাবার্তা বলেন। কংগ্রেস বিধায়করা বিধানসভায় কী ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছেন তার স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল জাকারিয়ার সেদিনের সেই বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে। দিশপুরে বুধবার সেটা আরও স্পষ্ট করে দেন আমিনুর, নুরুল, মহিবুররা।