এবার জবর দখল হঠাতে শিয়ালদা এবং সুকান্ত সেতুতে পুরসভার নোটিস

38

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: পালাবদলের পর থেকেই স্টেশন চত্বর কিংবা বেআইনি দখল বরদাস্ত করা হচ্ছে না। মাঝে মাঝেই চলছে বুলডোজার। বুলডোজারের জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত । তপসিয়া, কসবা, পার্ক সার্কাসের মতো জায়গায় আগেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদা, দমদম সহ একাধিক স্টেশনের অবৈধ দোকানগুলিও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার শিয়ালদা ফ্লাইওভারের নিচের জবর দখল হঠাতে তৎপর কলকাতা পুরসভা। সুকান্ত সেতুর নিচেও বেআইনি নির্মাণ সরাতেও নোটিস দিয়েছে পুরসভা।

উত্তর কলকাতা এবং দক্ষিণ কলকাতা। শহরের দুই প্রান্ত। শিয়ালদা স্টেশন চত্বর ‌ও ৩৬৫ দিন ব্যস্ত। অন্যদিকে সুকান্ত সেতু অর্থাৎ যাদবপুর স্টেশন এর ঠিক ওপরের সেতু অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে সারাবছর। কলকাতা পুরসভার তরফে শহরের দু’প্রান্তে নোটিস পড়েছে ইতিমধ্যেই। সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৭ দিন। নোটিস অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই দুই সেতুর নিচে যাঁরা বেআইনিভাবে জবর দখল করে দোকান করেছে, তাঁদের উঠে যেতে বলা হয়েছে। তা না হলে কলকাতা পুর কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী ১৯৮০ বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে নোটিসে।‌

নোটিসে আরো বলা হয়েছে, যাদবপুর ও সন্তোষপুরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার হল সুকান্ত সেতু। সুলেখা ক্রসিং থেকে শুরু হয়ে গোপালনগর পর্যন্ত এই সেতুটি। এই সেতুর নিচের সন্ধেবেলা বাজার বসে। রয়েছে হকার্স মার্কেটও। অন্যদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারগুলির মধ্যে একটি হল শিয়ালদার বিদ্যাপতি সেতু। শিয়ালদা স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত এই সেতুর নিচে ঝাঁকে ঝাঁকে দোকান রয়েছে। এমনকী রয়েছে বিরাট বাজারও। এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্লাইওভারের নিচের দোকানগুলি খালি করার নির্দেশ দিল পুরসভা।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহেই ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর স্টেশন লাগোয়া বস্তি এলাকাও খালি করতে পুরসভার নোটিস পড়েছে। জানা গিয়েছে, ওই বস্তি এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার বাসিন্দা থাকেন। কিন্তু পুরোটাই বেআইনিভাবে দখল।‌ শুধু ঝুপড়ি নয়, একাধিক ছোট ছোট দোতলাও নির্মাণ হয়ে গিয়েছে দখলি জমিতে। এবার সেই জায়গা খালি করতেও ডেডলাইন দিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।‌