বিধানসভা চত্বরে তৃণমূলের ধর্না, অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক

54

দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত চাপে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কালীঘাটে একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন দলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তবে সেই বৈঠকের পরও রাজপথে আন্দোলন বা জনসংযোগ কর্মসূচিতে তাঁদের সক্রিয়ভাবে দেখা না যাওয়ায় দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে অসন্তোষ।

দলীয় সূত্রে খবর, কালীঘাটে মঙ্গলবারের বৈঠকে একাধিক বিধায়ক সরাসরি নেতৃত্বের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র ঘরোয়া বৈঠক করে বা দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করে দলকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে হলে রাজপথে নেমে আন্দোলন গড়ে তুলতেই হবে। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানান, দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে পড়ছে এবং নেতৃত্বকে আরও দৃশ্যমান হতে হবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার সকালে বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির নীচে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ধরনায় বসেন তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক। আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দলের মুখপাত্র এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও কয়েকজন নেতা-বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চলছে এবং প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হকার উচ্ছেদের নামে সাধারণ মানুষের রুজিরুটিতে আঘাত করছে।

তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়। তৃণমূলের মোট বিধায়কদের মধ্যে বড় অংশকেই এই কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। আর সেই অনুপস্থিতিকেই ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলের ভিতরে মতপার্থক্য ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। একাংশ এখনও নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অন্য অংশ চাইছেন আরও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক লড়াই।

তৃণমূল বিরোধীরা অবশ্য এই পরিস্থিতিকে তৃণমূলের ‘অন্তর্দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ’ বলেই কটাক্ষ করেছে। যদিও তৃণমূলের তরফে সরকারি ভাবে দাবি করা হয়েছে, দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং মানুষের স্বার্থে আন্দোলন আগামী দিনেও চলবে। তবে কালীঘাটের বৈঠকের পরদিনই দলীয় কর্মসূচিতে তৃণমূল বিধায়কদের গরিষ্ঠ অংশের অনপুস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।