বিবেক বরা, তিনসুকিয়া: তিনসুকিয়ার শদিয়া সমজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে আফ্ৰিকান সোয়াইন ফ্লু। পরিস্থিতির মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। শদিয়া সমজেলার কাকপথারের উত্তর রংপুরিয়া গ্রামে ধরা পড়েছে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু। তারপরই সতর্কতা অবলম্বন করেছে জেলা প্রশাসন।
বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপ
এই প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের দুৰ্যোগ মোকাবিলা আইনের অধীনে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলাশাসক সুমিত সাত্তাওয়ান। শদিয়া সমজেলার উত্তর রংপুরিয়া গ্রামকে আফ্ৰিকান সোয়াইন ফ্লুর কেন্দ্ৰ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রামের এক কিলোমিটার ব্যাসাৰ্ধ এলাকাকে সংক্ৰমিত এলাকা এবং দশ কিলোমিটার ব্যাসাৰ্ধ পৰ্যন্ত এলাকাকে পর্যবেক্ষণ এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, ২৭, ২৮ এবং ২৯ মে সংক্ৰমিত অঞ্চলে শুয়োর নিধন করা হচ্ছে। পশুপালন এবং পশু চিকিৎসা বিভাগের অফিসারদের উপস্থিতিতে এই শুয়োর নিধন প্রক্রিয়া চলছে। জেলাশাসকের জারি করা নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য প্ৰযোজ্য হবে এবং এই সময়ে শদিয়া সমজেলায় সমস্ত শুয়োরের মাংসের দোকান বন্ধ থাকবে। শদিয়া থেকে অন্য জেলা এবং প্রতিবেশী অরুণাচল প্ৰদেশে শুয়োরের মাংস এবং শুয়োরের মাংস প্রস্তুত সামগ্ৰী পাঠানো সম্পূৰ্ণ নিষিদ্ধ।
মানুষের শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা
বিপজ্জনক রোগটি যাতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে, শুয়োরের পক্ষে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু অতি সংক্ৰামক এবং প্রাণঘাতী। তবে, আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্ৰতিরোধে প্ৰশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেই এই নির্দেশ লঙ্ঘন করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২২৩ ধারার অধীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু রোগ সম্পর্কে
আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু একটি অতি সংক্রামক ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই রোগে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়। মূলত গৃহপালিত শুয়োর এবং বুনো শুয়োররা এই রোগে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হলে মৃত্যু হার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ। ফলে, খামারিদের পক্ষে এই রোগ বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে ওঠে। তবে, সাধারণত, মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয় না। আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু প্রথম শনাক্ত হয়েছিল আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি অঞ্চর দক্ষিণাঞ্চলে। পরে, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের অসম এবং অরুণাচলে প্রথম এই রোগ ধরা পড়ে ২০২০ সালে।
কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে?
রোগাক্রান্ত শুয়োরের সংস্পর্শে এলে সুস্থ শুয়োর আক্রান্ত হয়ে পড়ে। খাদ্য, জলের মাধ্যমে এবং কাছাকাছি থাকলে রোগাক্রান্ত শুয়োরের শরীর থেকে সুস্থ শুয়োরের শরীরে সংক্রামিত হয়। খামারের আক্রান্ত শুয়োরের থেকে মানুষের মাধ্যমেও অন্য শুয়োরেরা সংক্রামিত হতে পারে।
আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর লক্ষণ
প্রবল জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, ত্বকে লাল বা গাঢ় রঙের ছোপ, রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, বমি, চোখে ফোলাভাব, হঠাৎ ব্যাপক হারে মৃত্যু। এত দ্রুত রোগটি ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত মৃত্যু ঘনিয়ে আসে বলে রোগটি বিপজ্জনক। রোগাক্রান্ত শুয়োরের চিকিৎসার কোনও সুযোগই মেলে না।