নিউজ ডেস্ক: গত ২দিন ধরে টানা বৃষ্টি। বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ। গত ৪৮ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। রাজ্যটির ৬৩ জেলায় অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টি হয়েছে। এই তথ্য দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ ত্রাণ তহবিল বিভাগ। অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে চাষাবাদ। সহস্রাধিক বাড়িঘর ডুবে আছে জলে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশের পর উত্তর প্রদেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ভূমিধসের ঘটনাও ঘটে।
উত্তর প্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। হাওয়া অফিস গত কয়েক বছর ধরে তীব্র বজ্রঝড় ও বজ্রপাতসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এসব পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত উত্তর প্রদেশে গড়ে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ বছরের এই সময়ে রাজ্যটিতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের গড় মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
রাজ্যটির বালিয়া, প্রয়াগরাজ, বারাণসী এবং বাদাউন সহ ১৭ জেলার আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ত্রাণ তহবিল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩৭০০ জনেরও বেশি মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ৫৫০টি নৌকা ও মোটরবোটের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শুধু উত্তর প্রদেশ নয় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে বিহার, ছত্তীসগঢ় এবং ওড়িশায়। বিহারে অবিরাম বৃষ্টির জন্য বাল্মীকিনগর জলাধার থেকে ক্রমাগত জল ছাড়া হচ্ছে। আর তার জেরেই বৃদ্ধি পাচ্ছে গণ্ডক নদীর জলস্তর। ডুবে গিয়েছে বাড়িঘর।