দিঘা: বাদাম আর বালিয়াড়ি এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই এককালে পূর্ব মেদিনীপুরের সৈকত এলাকায় গড়ে উঠেছিল রাজ্যের কাজুশিল্পের নিজস্ব কৌলিন্য। তবে আজ দুই-ই বিপন্ন। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের জেরে বাংলার বুক থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা কাজু বাগান।
জমির তীব্র সংকট এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় সঠিক লাভ না পাওয়ায় অনেক চাষিই আজ বাধ্য হয়ে কাজুগাছ কেটে ফেলছেন। ফলে কাঁচামালের চরম আকাল দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে। পরিস্থিতি এতটাই সংগিন যে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে রাজ্যের শত শত প্রসেসিং ইউনিটগুলোর বড়জোর এক মাস চলতে পারে। ফলত, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে কোনোমতে টিকিয়ে রাখতে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা, ঘানা বা নাইজেরিয়ার মতো দূরদেশ থেকে আসা আমদানিকৃত কাঁচা কাজুর ওপরই পুরোপুরি ভরসা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
এই মরণাপন্ন দেশীয় শিল্পকে অক্সিজেন দিতে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে কাজু চাষ বাড়ানোর যে ঘোষণা হয়েছে, তা কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। পাশাপাশি, ঘাটতি মেটাতে কৃষি দপ্তরও গবেষণাগার থেকে আধুনিক ‘গ্রাফটিং’ বা কলমের চারা সরবরাহ শুরু করেছে, যা প্রথাগত বীজের তুলনায় অর্ধেক সময়ে—মাত্র ৩-৪ বছরেই ফলন দিতে সক্ষম। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়ের ভ্রূকুটি উড়িয়ে চলতি মরশুমে অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন উপকূলের প্রান্তিক কাজু চাষিরা।