দিলীপ তালুকদার, সেঙাঃ জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজে জলসম্পদ বিভাগ এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক লুণ্ঠনের অভিযোগ। সেঙা কেন্দ্রের চেনিমারিতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। প্রতি মুহূর্তে পার ভাঙছে ব্রহ্মপুত্রের। ইতিমধ্যেই বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি ভাঙনের কবলে পড়ে নিশ্চিহ্ন। এই ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে চেনিমারিতে বাঁধ প্রকল্প গৃহীত হয়েছিল। অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন প্রতিরোধে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে জিও ব্যাগ বসিয়ে যে কাজ হয়েছে সেটা কার্যত ব্যর্থ।
সেঙার কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুর রহিম আহমেদ নিজেই জলসম্পদ বিভাগের অফিসার এবং কৰ্মচারীদের সামনেই দেখিয়ে দিলেন নিম্নমানের কাজের নমুনা। এখনও বর্ষা আসেনি। তবে, খুব বেশি দেরিও নেই। এরকম নিম্নমানের বাঁধের কাজ এবারের বর্ষায় যে ভেসে যাবে তা একরকম নিশ্চিত। আসন্ন বর্ষায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে তা নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সেঙার বাসিন্দারা।
প্রশ্ন উঠেছে, কী চলছে বরপেটার জলসম্পদ বিভাগে? ভাঙন প্ৰতিরোধের কাজে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের ভূমিকাই বা কীরকম? অভিযোগ উঠেছে নির্বিচার লুণ্ঠনের। জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে সেই জিও ব্যাগে ৪০ শতাংশ বালি ভরে কাজ চালানো হচ্ছে। সেঙ্গা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি নিয়ে ছেলেখেলার অভিযোগ জলসম্পদ বিভাগের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের কাজ করে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন ঠিকাদার। আর, এই দুর্নীতিপরায়ন ঠিকাদারকে নিয়ন্ত্ৰণে ব্যৰ্থ জলসম্পদ বিভাগ। জিও টিউব বাঁধের জিরো পয়েন্টে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উন্নত মানের জিও ব্যাগের পরিবৰ্তে অত্যন্ত নিম্নমানের প্লাস্টিক ব্যাগ বসিয়ে স্রেফ দায় সারা হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাগে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বালি ভরে দ্ৰুতগতিতে কাজ চালানোর অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্ৰশ্ন উঠেছে, এই কি ভাঙন রোধের চেষ্টা, নাকি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ টাকা গ্ৰাস করার প্রকল্প।
শীঘ্রই ভাঙন প্ৰতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এনিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেঙার বাসিন্দারা।