নিউজ ডেস্ক: গুয়াহাটিতে স্কুল ঠিক করো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে এসে পুলিশি ঝামেলার মধ্যে পড়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সহ শেখ সাহিলউদ্দিন শেখ ও তাঁদের সহযোগীরা। রবিবার দিশপুরের একটি স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। তার আগে অসম জাতীয় পরিষদ দলের নেত্রী কুনকি চৌধুরীর বাড়িতে বৈঠক করার সময় তাঁদের আটক করে অসম পুলিশ।
সিজেপি কর্মীদের আটক করে পুলিশ আসাম ব্যাটেলিয়ন শিবিরে নিয়ে যায়। আটকাধীন অবস্থায় অনশন শুরু করেন সিজেপির ৪৬ কর্মী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক ও প্রধান মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্কিত ভরদ্বাজ, যুগ্ম সচিব প্রেমাকাশ গোলু এবং আসাম সমন্বয়কারী শেখ সাহিলউদ্দিন শাহ প্রমুখ।
আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, গুয়াহাটিতে একটি নির্ধারিত বৈঠকের আগে আসাম পুলিশ তাঁকে এবং দলের ৪০ জনেরও বেশি কর্মীকে বেআইনিভাবে আটক করেছিল। তিনি দাবি করেন, পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা উপরমহলের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সমাজমাধ্যমে রাঙ্কা বলেন, অসম পুলিশের বেআইনি আটকের অবসান হয়েছে। আমরা পুলিশকে বলেছি, যেখান থেকে আমাদের বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই যেন তারা আমাদের পৌঁছে দেয়।
মুক্তির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাঙ্কা জানান, আটকের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে পুলিশ কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।

অসম পুলিশ আমাকে ও আমার দলকে বেআইনিভাবে আটক করেছিল। আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কী কারণে আমাদের আটক করা হচ্ছে, কিন্তু পুলিশ জানায় যে তারা তা জানে না, তাদের ওপরমহল থেকে এমন নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল, বলেন আশুতোষ রাঙ্কা।
অসম জাতীয় পরিষদের নেত্রী কুঙ্কি চৌধুরীর ‘চৌধুরী টিলা’র বাসভবনে একটি বৈঠকের জন্য রাঙ্কা এবং সিজেপি কর্মীরা যখন একত্রিত হয়েছিলেন, তখনই পুলিশ তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের গুয়াহাটির কাহিলিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ১০ম আসাম পুলিশ ব্যাটেলিয়নের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাঙ্কা জানান, প্রস্তাবিত বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল অসমের স্কুলগুলোর অবস্থা, কাজিরঙার আদিবাসীদের অধিকার এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।
দিনের শুরুতে পুলিশ যখন তাঁকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাঙ্কা অভিযোগ করেন যে, সিজেপি যাতে এই বিষয়গুলো সামনে তুলে ধরতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভয় পাচ্ছেন যে, আমরা যদি এখানকার স্কুলগুলোর চিত্র তুলে ধরি, তবে দেশবাসী আসল পরিস্থিতি জেনে যাবে। তিনি আশঙ্কা করছেন যে, কর্পোরেটদের স্বার্থে কাজিরঙায় কীভাবে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা সবাই জেনে যাবে। এ ছাড়া, মানুষের সৃষ্ট বন্যার কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, তোপ আশুতোষ রাঙ্কার।
রাঙ্কা আরও অভিযোগ করেন যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ‘আসল রূপ বেরিয়ে পড়ার ভয়ে’ ভীত ছিলেন এবং দাবি করেন যে সিজেপি-র সমালোচনার বিষয়বস্তু শুধু স্কুল নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাঙ্কা বলেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন যে আমরা যদি এখানকার স্কুলগুলোর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরি, তবে দেশবাসী আসল সত্যটা জেনে যাবে।
আশুতো, রাঙ্কা বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরশোলা দেখেও ভয় পান এবং আমাদের হুমকি দিতে পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন যে এটি জুবিন দার ভূমি, যিনি সর্বদা ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করেছেন। আমরা আমাদের শিশুদের জন্য স্কুল এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দিল্লিতে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে ভুল করেছিলেন, শর্মাও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
রাঙ্কা বলেন, হিমন্তর হাতে হয়তো প্রচুর সম্পদ ও ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু আমরা ভীত নই। আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছি।
এদিকে, এনসিপি (এসপি)-র মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে অভিযোগ করেন যে, রাঙ্কা এবং আরও ৪৫ জনকে একটি ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে “বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে আটক” করা হয়েছিল; ওই বাসভবনেই সিজেপি স্বেচ্ছাসেবকদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
গাওয়ান্ডে দাবি করেন যে, আটককৃতদের কোনও আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং কোন ধারায় বা কী কারণে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়েও তাদের কিছু জানানো হয়নি।