ভোটারকে বহিষ্কারই এসআইআরের লক্ষ্য: গৌরব গগৈ

29

নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রধানকে আক্রমণ গৌরব গগৈয়ের।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের সমালোচনা গৌরব গগৈয়ের। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত শুনানি হওয়ার আগেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
গৌরব গগৈয়ের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক মহল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুরক্ষা দিচ্ছে।
গৌরব গগৈ বলেন, নির্বাচনের ধরন যা-ই হোক না কেন, ভোট দেওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হিসেবেই গণ্য হয়।
নির্বাচন সংসদ, বিধানসভা, পৌরসভা, পঞ্চায়েত কিংবা ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত উপজাতি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল— যাই হোক না কেন, অথবা তা সাধারণ নির্বাচন বা উপনির্বাচন, তাতে কিছু যায় আসে না। ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার আমাদের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বলেন যোরহাটের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।
এসআইআর প্রক্রিয়াকে ২০১৬ সালের নোট বাতিলের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে এসআইআরকে ভারতীয় ভোটের নোট বাতিল” বলে অভিহিত করেন গৌরব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি-আরএসএস জ্ঞানেশকুমারকে সুরক্ষা দিচ্ছে যাতে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারেন।
গৌরব বলেন, জ্ঞানেশকুমারের কাজ হল সমস্ত রাজ্যের নির্বাচন পরিচালনা করা, ২০২৫ সালের বিহার থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ ও অসম এবং ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ, এভাবেই সব নির্বাচন সামলানো।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চরম বিতর্ক চলছে। সব বিরোধী দল ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে যে, সঠিক ভোটার তালিকা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচন নিয়ে গৌরব গগৈ বলেছেন যে, এই উপনির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পাস করার পথ সুগম করার লক্ষ্যে বিজেপি যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটেই এই নির্বাচনটি তাৎপর্যপূর্ণ।
গৌরবের মতে, প্রস্তাবিত আইন পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অর্জনে বিজেপি সচেষ্ট, সেজন্য প্রত্যেক সাংসদের ভোটই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গৌরব গগৈ বলেছেন, নগাঁও উপনির্বাচন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। বিজেপি লোকসভায় নিজেদের আসন সংখ্যা এমনভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে যাতে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি উত্থাপন করতে পারে। এই বিলটি পাস করানোর ক্ষেত্রে তাদের জন্য প্রত্যেক সাংসদের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য যে, গত এপ্রিলে লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬ উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন পায়নি বলে বিল পাস হয়নি।
গৌরব বলেন, কংগ্রেস আগামী দিনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের বিরুদ্ধে একটি ইমপিচমেন্ট আনবে সংসদে। আমরা চাই নগাঁওর সাংসদ যেন ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তাই নানা কারণেই এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুত বরদলৈ পদত্যাগ করায় নগাঁও লোকসভা আসন শূন্য হয়ে পড়েছিল। এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৬ অক্টোবর এবং ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর।