নিউজ ডেস্ক: দেশ জুড়ে এসআইআর নিয়ে প্রবল বিতর্কের আবহে মঙ্গলবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকে ৫ দফা দাবি তোলা হয়েছে। এক দীর্ঘ বিবৃতিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন যে ব্রিটিশ শাসনের মতো ফের ভারতের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার ঐতিহাসিক দায়িত্ব কংগ্রেসের কাঁধে এসে পড়েছে। আমরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভোটাধিকার ছিনিয়ে এনেছিলাম; আজ সেই অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের আবারও লড়াই করতে হচ্ছে। গত ১২ বছরে মোদী সরকার ষড়যন্ত্রমূলক উপায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল ও অন্তঃসারশূন্য করে ফেলেছে।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরকারের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন নীরবে ‘ফর্ম ৬’-এর নিয়মকানুন পরিবর্তন করেছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। মহাদেবপুরম, আলান্দ এবং হরিয়ানা-মহারাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়ে রাহুল গান্ধী নথিপত্র ও ভোটার সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশ্ন তুলেছিলেন।
আমরা চাই নির্বাচন কমিশন এতটাই শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠুক যেন শাসক দল ও বিরোধী দল—উভয়েরই এর সিদ্ধান্তের প্রতি সমান আস্থা থাকে। গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা। কিন্তু এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন, তা জানতে চাওয়া কি অন্যায়? কেন দুজন নির্বাচন কমিশনারকে ‘অভ্যন্তরীণ পোর্টাল’ (Internal Portal)-এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল— সেবিষয়ে প্রশ্ন তোলা কি ভুল? সেখানে কি কোনো গোপন কার্যকলাপ চলছিল?
কংগ্রেসের দাবি
১. ভোটার তালিকার প্রতিটি বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
২. যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে এবং আপিল করার সুযোগ দিতে হবে।
৩. রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় তথ্য সহজ বিন্যাসে এবং যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।
৪. গুরুতর অসংগতির প্রমাণ পাওয়া গেলে একটি নিরপেক্ষ ও সময়সীমা-নির্দিষ্ট তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. নির্বাচন প্রক্রিয়াসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এমন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে কোনও দলই তথ্য গোপন করার অভিযোগ তোলার সুযোগ না পায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের ভোটারদের মনে এই আস্থা থাকতে হবে যে তাঁদের ভোট নিরাপদ। আমরা এই বিষয়টিকে কেবল নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের লড়াই হিসেবে দেখি না। নির্বাচন আসে-যায়, সরকার আসে-যায়; কিন্তু গণতন্ত্র ও সংবিধান স্থায়ী। এটিই ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি।