পৃথা দাশগুপ্ত: তদন্ত কোন পর্যায়ে?’ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-এর সিট ভাঙার আর্জিতে সাড়া দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে প্রাথমিক, উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে ফের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের । সিবিআই গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল সিট ভেঙে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে করা আবেদনের শুনানিতে আজ পর পর প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। পাশাপাশি সিবিআই-এর আবেদন কলকাতা হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি সিবিআই-কে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতি।
মামলার শুনানিতে এ এস জি বলেন, “অনেক অফিসার রয়েছেন, যাঁরা অবসর নেবেন। আবার তদন্তের এতগুলো বছরের মধ্যে কেউ অবসর নিয়েছেন। তাঁদের রিলিজ করতে হবে।” বিচারপতির প্রশ্ন, “ভবিষ্যৎ কী তদন্তের? সেগুলি কী যেগুলি, আপনারা তদন্ত করছিলেন?” তখন চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, “কী পদক্ষেপ করেছে সিবিআই? কিছুই করেনি?”
মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “সিবিআই সিট ভেঙে দিতে চায় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় “
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “শীর্ষ আদালতের নির্দেশ এক্ষেত্রে অমান্য করা হবে। তদন্ত না করলে সিট কেন হয়েছিল?”
বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে তাহলে এই আদালত কী করবে? সব প্রসিডিং স্টে করেছিল শীর্ষ আদালত।”
সিবিআই-এর আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, “পাঁচ বছর অনেকে অবসর নিয়েছেন। আমরা সুপ্রিম কোর্টে পার্টি ছিলাম না।”
আদালত স্পষ্ট করে, “সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একক বেঞ্চ কীভাবে কোনও নির্দেশ দিতে পারে? হাইকোর্ট এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। সিবিআই যদি গঠিত সিট ভেঙে ফেলতে চায়, তবে তারা সুপ্রিম কোর্টেই গিয়ে আবেদন জানাক।”
বিচারপতির এই নির্দেশের পর সিবিআই-এর আবেদনটি হাইকোর্টের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে নিয়োগ দুর্নীতির জট খুলতে গঠিত সিটের ভবিষ্যৎ এবং সিবিআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সম্পূর্ণরূপে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।