নিউজ ডেস্ক: ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মারামারি। বিমানের ১৮০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন। ফ্লাইদুবাই-এর ভারতীয় ক্যাপ্টেন বিমান বিধ্বস্ত করার চেষ্টাকারী কো-পাইলটকে প্রতিহত করে ১৮০ জনেরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। ছুরির আঘাত পাওয়ার পরও ওই ভারতীয় ক্যাপ্টেন এমন একটি ঘটনা রুখে দেন, যাকে ইজরায়েলি কর্মকর্তারা এখন দ্বিতীয় ‘৯/১১’ ধাঁচের সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করছেন।
ইসরায়েলের ওয়াইনেট নিউজ ও চ্যানেল ১২-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর যে ক্যাপ্টেন কো-পাইলটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে একটি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করেছেন, তিনি ভারতীয়। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই বিমানকে শেষপর্যন্ত যাত্রীদের মধ্যে থাকা অন্য পাইলটরা (যাঁরা তখন ডিউটিতে ছিলেন না) নিরাপদে অবতরণ করান। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করা হলেও তিনি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এর ফলে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার থেকে রক্ষা পায় এবং ১৮০ জনেরও বেশি মানুষের—যাদের অধিকাংশই ইজরায়েলি— প্রাণ বাঁচে।
ইজরায়েলি কর্মকর্তা ও প্রাথমিক তদন্ত থেকে আমরা যা জেনেছি, তাতে দেখা যাচ্ছে কো-পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক এবং তিনিই মূল পাইলটকে ছুরি মেরেছিলেন। মূল পাইলট ভারতীয় নাগরিক
বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলটকে কীভাবে ইজরায়েলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ বা সেখানে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার আগে সব বিদেশি ক্রু সদস্যকে, বিশেষ করে আরব বা উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের—কঠোর ও স্বতন্ত্র নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এক ইজরায়েলি কর্মকর্তা বলেন যে একটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এক পাইলট অন্যজনকে ছুরি দিকে কোপান করেন ৯/১১-র মতো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেন, অর্থাৎ হয় বিমানটি ছিনতাই করে মাটিতে নামিয়ে আনা অথবা এটি বিধ্বস্ত করা।
এক যাত্রীর মা বলেছেন, সৌদি আরব থেকে তাঁর মেয়ে তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, মেয়ে বলেছিল, এক পাইলট ছুরি দিয়ে অন্য পাইলটকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তারা চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, আরেকজন যাত্রী ককপিটের দিকে গিয়ে প্রচুর রক্ত দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন এবং তখন কয়েকজন ভেতরে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন।
উভয় পাইলট বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক ইজরায়েলি যাত্রী জানিয়েছেন যে, বিমানটি যখন দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে, তখন এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি মারেন এবং তাকে জোর করে ককপিট থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ওই যাত্রীর ভাষ্য, বিমানটি নীচে নামার সময় সামনের দিকে বসা কয়েকজন ইজরায়েলি দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান এবং হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন। পেছনের আসনে বসা অন্য দুই পাইলটকে শুরুতে হতভম্ব বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় মনে হচ্ছিল; তাই ওই যাত্রী তাঁদের বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চিৎকার করে তাগাদা দেন।
যাত্রী জানান, শেষপর্যন্ত ওই দলটি হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে এবং অন্য দুই পাইলটকে ভেতরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এরপর তাঁদের একজন বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন, আর অন্যজনের সেই হতভম্ব অবস্থা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে।
ওই যাত্রী জানান যে, ছুরিকাঘাতের শিকার পাইলটের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। ওই ফ্লাইটে ভ্রমণরত একজন ইজরায়েলি দন্তচিকিৎসক আহত পাইলটকে চিকিৎসা দেন এবং তাঁর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেন।
এই ঘটনার পর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ফ্লাই দুবাইয়ের ওই বিমান তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করার পর বিমানযাত্রীরা হাততালি দিচ্ছেন, গান গাইছেন।