কীভাবে জমি সিন্ডিকেট চালাত সোনা পাপ্পু? ED-র হাতে তথ্য

37

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু হল সিন্ডিকেটের মূল মাথা। তাঁর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ। ইডি-র দাবি, ভয় দেখিয়ে বেশি দামের জমি কম দামে কেনা, সম্পত্তি হস্তান্তর করা ছিল সোনা পাপ্পুর প্রধান কাজ। তাঁর সঙ্গে কাজ করতো আরো তিন শাগরেদ । ইডির আরো দাবি, বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতার পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন সোনা পাপ্পু। জমি সিন্ডিকেটের মূল মাথা ছিলেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন এতদিন । ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটনা ঘটার পর থেকে তিনি আদৌ বাড়িতে ছিলেন না। পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু কার প্রশ্রয় তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন সেটাও খোঁজার চেষ্টা করছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।

কী ভাবে এত দিন জমি সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন সোনা পাপ্পু ও তাঁর সঙ্গীরা ? ইডি সূত্রে খবর,‌ তোলাবাজি, হুমকি, জমি দখল, বেআইনি অস্ত্র রাখা-সহ একের পর এক অভিযোগ মিলছে তাঁর বিরুদ্ধে। মাস্টারমাইন্ড হলেন সোনা পাপ্পু।

পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে একটি রিভলভার উদ্ধার হয়। ইডির দাবি, কামদারের সংস্থার নামে ওই রিভলভার কেনা হয়েছিল। ওই রিভলভার কেনার পর কাঁকুলিয়াতে অশান্তির ঘটনা ঘটে।

ইডির সূত্রে খবর, এই চক্র খুব কম দামে সম্পত্তি কিনত। ওই সব জমিতে নির্মাণকাজ করতে ‘ক্রিমিনাল মাস্‌ল’ ব্যবহার করা হত। সোনা পাপ্পু বাজার মূল্যের থেকে কম দামে পরিবারের নামে সম্পত্তি কিনতেন। এমন জমিও আছে, ২০২৪ সালে যার বাজারমূল্য ৭.৭ কোটি, সেটা কেনা হয়েছিল এক কোটিতে। ২০২২ সালে ১৮ কাটার একটি জমি কিনেছিলেন সোনা পাপ্পু, যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। অথচ তা কিনেছিলেন ১ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকায়।

ইডির দাবি, মূলত বৃদ্ধদের টার্গেট করা হত জমি কেনার ক্ষেত্রে। বিভিন্ন নির্মাণ এবং রিয়েল এস্টেট সংস্থার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতেন সোনা পাপ্পু। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নামে এমন ৩০টি সংস্থার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি। পাশাপাশি ইডি ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখেছে। সূত্রের খবর ,জয় কামদার এবং সোনা পাপ্পুদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার মধ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ইডির দাবি, কামদার বা তাঁর সংস্থা যে যে কাজের পরিকল্পনা করত, তা বাস্তবায়িত করতেন পাপ্পুই।

আপাতত ২৮ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকার পরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আর কী কী তথ্য পায় সেটাই এখন দেখার।