নিজেকে নিরাপদ রাখা জরুরি: হিমন্ত

38

নিউজ ডেস্ক: গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার মৃত্যুর পর মুখ খুললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। দোষীকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সবারই উচিত কীভাবে নিরাপদ থাকতে পারি তার কৌশল জানা।
গুয়াহাটির ধারাপুরের একটি হোমস্টে-তে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেছেন, পুলিশ এই ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, মৃত ছাত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে তদন্তকারীরা ছাত্রীর দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট খতিয়ে দেখবেন, তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করবেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন।
হিমন্ত বলেন, ওই ছাত্রীর মৃত্যুতে আমিও ব্যথিত। সে আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে তার দেওয়া সব বক্তব্য পর্যালোচনা, বাড়ি পরিদর্শন, ফোন কল এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলবে। ঘটনার অগ্রগতির বিষয়ে আমিও খোঁজখবর রাখব।
ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পারিবারিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন।
আমি মনে করি, কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখা যায়, সেবিষয়ে আমাদের সবারই ভাবা উচিত। ওই তরুণী নাবালিকা ছিলেন না, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। তাই আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য মেনে চললে সমাজ আরও ভালো অবস্থায় থাকে, বলেন হিমন্ত।
শর্মা পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রথাগত রীতিনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, এগুলো পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত কমাতে সাহায্য করতে পারে।
একারণেই আমি সবসময় বলি যে, আমাদের বাবা-মা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং আমাদের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখা উচিত। এতে পরিবারের মধ্যে সংঘাত কম হবে, বলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
২২ বছর বয়সি গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়াকে শনিবার ভোরে ধারাপুর-গরল এলাকার ‘রুদ্র’স কিচেন’ হোমস্টে-তে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যান। তাঁকে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ তিনি ওই হোমস্টে-তে তরুণীর সঙ্গে ছিলেন। ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন কিংবা তাঁকে খুন করা হয়েছে কি না তা এখনও স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত হয়নি। অতিথিদের নথিপত্র সংরক্ষণে গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ওই হোমস্টে সিল করে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা প্রতিষ্ঠানটির নথিপত্র এবং তরুণী ও তাঁর সঙ্গীর সেখানে অবস্থানের পরিস্থিতি যাচাই করছেন।