কড়াকড়িতে হুঁশ ফিরল বাইকচালকদের, দোকানে দোকানে হেলমেটের খোঁজ

108

কলকাতা : ট্রাফিক আইন ভেঙে রাজনৈতিক দাদাদের ফোনে পার পাওয়ার চেনা ছবিটা এবার বদলেছে। প্রশাসনের কড়া মনোভাবের জেরে রাজ্যজুড়ে বাইকচালকদের মধ্যে শেষমেশ হেলমেট পরার তাগিদ দেখা যাচ্ছে। জরিমানা এড়াতে এখন মফস্বল থেকে শুরু করে শহরের হেলমেট বিক্রির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের তুমুল ব্যস্ততা।

পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বলছে, গত এক বছরে পথ দুর্ঘটনার একটা বড় অংশই ঘটেছে অসতর্ক বাইকচালকদের জন্য, যেখানে হেলমেট না থাকা এবং বেপরোয়া গতি প্রাণ কেড়েছে অসংখ্য মানুষের। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও সংযোগকারী রাস্তাগুলোতে গণপরিবহণের পাশাপাশি দুই চাকার গাড়ির চাপ বাড়ায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছিল। আগে নিয়ম ভাঙলে চেনা প্রভাব খাটিয়ে ছাড় পাওয়ার যে রেওয়াজ ছিল, প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাবের কারণে তা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

রাজ্যের আনাচে-কানাচে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এখন লাগাতার মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে, পাশাপাশি চলছে নাকা চেকিং। আইন অমান্যকারীদের হাতেনাতে ধরে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হচ্ছে। গত শনিবারও রাজ্যব্যাপী চালানো এই বিশেষ অভিযানে হেলমেট ছাড়া এবং সঠিক নথিপত্রহীন বাইক চালানোর দায়ে বহু চালককে মোটা টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, জরিমানার ভয়ে গত কয়েকদিনে হেলমেটের চাহিদা হু হু করে বেড়েছে। রাস্তায় বেরিয়ে সরকারি কোষাগারে জরিমানা দেওয়ার চেয়ে নিজের সুরক্ষায় টাকা খরচ করা অনেক বেশি লাভজনক বলে মনে করছেন পথচলতি চালকেরাও।

তবে ট্রাফিক কর্তাদের মতে, কড়া ব্যবস্থা নিয়ে কেবল ভয় দেখানো তাদের উদ্দেশ্য নয়; আসল লক্ষ্য চালকদের মানসিকতায় বদল আনা। কারণ মাথায় হেলমেট রাখাটা আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য নয়, নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি।