নিউজ ডেস্ক: মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলায় সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে অসমের চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে দমকল বাহিনীর দুজন কর্মীও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলার রংডোকরাম গ্রামে সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় রবিবার অসমের চারজন নির্মাণশ্রমিক মারা যান।
ঘটনাটি বিকেল ৩টের দিকে সেবাস্টিয়ান সি সাংমার বাসভবনে ঘটে, যেখানে শ্রমিকরা একটি নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকের কাজ করছিলেন।
শ্রমিকদের মধ্যে দুজন ট্যাংকের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করার সময় ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের সংস্পর্শে এসে হঠাৎই লুটিয়ে পড়েন। অন্য দুজন তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান, কিন্তু তাঁরাও সেই গ্যাসের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়েন।
পুলিশ এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে সেপটিক ট্যাংকটি মাটির নীচে থাকায় হতাহতদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারীদের ট্যাংকটির কাছে পৌঁছানোর জন্য এর চারপাশের মাটি খুঁড়তে হয়েছিল।
আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টার সময় দমকল বাহিনীর দুজন কর্মীও অচেতন হয়ে পড়েন। পের ওই চার শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতরা হলেন মানকাচরের দিয়ারা, পুরানদিয়ারার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সি মফিদুর রহমান. মানকাচরের চেঙ্গুরচর, পুরানদিয়ারার বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সি আজিয়ার রহমান, মানকাচরের চোমরাশালি, কালাপানির বাসিন্দা ২০ বছর বয়সি ইসমাইল হোসেন এবং মানকাচরের বোয়ালিয়া, রাধামাধব হাটের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি রাকিব হোসেন। নিহত চারজনই অসমের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচার জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সেপটিক ট্যাংকে সম্ভবত পর্যাপ্ত গ্যাস নির্গমনের ব্যবস্থা বা ‘সোক পিট’ ছিল না। এর ফলে আবদ্ধ ওই স্থানে বিষাক্ত গ্যাস জমা হয়ে থাকতে পারে। সেপটিক ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইড ও মিথেনের মতো গ্যাস থাকতে পারে, যা আবদ্ধ জায়গায় ঘনীভূত হলে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।