নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে ৬ দফা দাবি তোলা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা নিয়ে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩ কোটি ভোটারকে প্রকাশ্যেই বাদ দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের যে অধিকার তাঁদের ছিল, তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কারা ক্ষমতায় আসবে— সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সাধারণ ভোটারদেরই থাকা উচিত, ক্ষমতাসীনদের নয়। কোনও প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককেই যেন অস্বচ্ছ, খেয়ালখুশিমতো বা অপর্যাপ্ত তদারকিতে পরিচালিত কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া না হয়। যদি নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে কাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা আমাদের জানতে হবে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটাও জানা প্রয়োজন।
আজ আমাদের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের প্রকৃত রূপ সবার সামনে উন্মোচিত। তাঁর দুই সহকর্মী গত ১০ মাসে ১৪ বার চিঠি লিখেছেন! এটি তাঁর সততা ও উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলে। যদি তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র সাংবিধানিক বা নৈতিক লজ্জা অবশিষ্ট থাকে, তবে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন এবং আমাদের ভোটার তালিকায় যারা হস্তক্ষেপ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন।
এখন আমরা বুঝতে পারছি কেন প্রধানমন্ত্রী ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলি ও কার্যকাল) বিল, ২০২৩’ এনেছিলেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বাছাই প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে সেখানে একজন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া, ওই বিলে (যা এখন আইন) এমন বিধান রাখা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর বা মামলা করা যাবে না। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ এমন একজন ব্যক্তিকে চান যিনি কেবল ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে কাজ করবেন এবং তাঁদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবেন। বস্তুত, তাঁরাই হলেন আসল দোষী।
এরপর মল্লিকার্জুন খাড়গে ছয়টি দাবি পেশ করেন।
ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য ‘প্রি-এসআইআর’ ভোটার তালিকা ব্যবহার করা। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিটি পর্যায়ে—যার মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ও বুথ-ভিত্তিক তথ্য (যেমন—নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া বা সংশোধন) অন্তর্ভুক্ত থাকবে—সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তালিকা থেকে কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে যথাযথ নোটিশ ও কারণ দর্শানো এবং একটি কার্যকর আপিল ব্যবস্থা রাখা।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নথিপত্রের ঘাটতি বা সচেতনতার অভাবের কারণে যোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ পড়া রোধ করা।
ইভিএম-এর পরিবর্তে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ।
প্রথমবারের ভোটারদের জন্য সহজ ও সুলভ ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া।
প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং এমন একটি নির্বাচন কমিশন যা সব রাজনৈতিক মহলের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম।
Prev Post
Next Post