ইন্ডিয়া ব্লকের কর্মসূচি ঘোষিত

67

নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ২০ দলের বৈঠকের পর ইন্ডিয়া ব্লকের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, বিরোধী নেতারা অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইবেন। এর উদ্দেশ্য হল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা।
বিরোধী জোট ইন্ডিয়া-র বৈঠকের পর বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘোষণা করেন যে, বিজেপি-বিরোধী দলগুলোর সব সাংসদ ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দফতরে মিছিল করে যাবেন। এ ছাড়া ভোটচুরির বিরুদ্ধে ২-৮ অক্টোবর দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিল হবে।
গত সপ্তাহে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্রে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর সামনে আসে। ওই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল যে, কীভাবে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
খাড়গে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলাশাসকের কার্যালয়গুলোর সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন এবং ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী সাংসদ নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।
মল্লিকার্জুন খাড়গে আরও জানান যে পাঁচটি জনসভার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং সেগুলোর তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। দেশজুড়ে আয়োজিত এসব জনসভার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হবে কীভাবে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে তাদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা আমরা তাদের কাছে তুলে ধরব। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই জনসভাগুলো অনুষ্ঠিত হবে,” তিনি জানান।
তিনি বলেন, ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বিশাল জনসভা হবে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের ভোটচুরির বিষয়টি আমরা ব্যাখ্যা করব।
খাড়গে আরও বলেন, এ ছাড়া, ইন্ডিয়া জোটের সব নেতা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানাবেন যাতে এসআইআর এবং নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত অন্যান্য বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কীভাবে ভোটচুরি করছে, সেই বিষয়টি রাহুল গান্ধী ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরে আসছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন, কিন্তু কেউ তাতে কর্ণপাত করেনি।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করে তিনি বলেন, মোদী সরকার প্রথমে জনগণ ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে নোটবন্দির আশ্রয় নিয়েছিল এবং এখন মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে ভোটবন্দির পথ বেছে নিয়েছে।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে জ্ঞানেশকুমারকে নিশানা করেন। মমতা বলেন, ওরা বাংলায় লুট করেছে। এখন সবই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশকুমার চোর। উনি ইভিএম পুড়িয়েছেন। উনি এখনই পদত্যাগ করুন। উনি পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়বে।
মমতার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, যাঁরা ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাঁদের শাস্তির বিষয়টি আমরা সুনিশ্চিত করবই। তাঁরা কত বড় পদে রয়েছেন, সেটা বিষয় নয়। কোনও একজন ব্যক্তির চেয়ে দেশের গণতন্ত্র অনেক বড়।